গাজীপুরে টুম্পা হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৯:০৮
গাজীপুরের গৃহবধূ নুশরাত জাহান টুম্পাকে (২৮) হত্যার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত স্বামী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর সোলায়মান মিয়ার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।
 
মঙ্গলবার বিকালে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি এলাকার কোনাবাড়ি-কাশিমপুর সড়কে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে এলাকার শত শত নারী পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। 
 
এসময় নিহত নুশরাত জাহান টুম্পার পিতা বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বিয়ের কয়েক বছর পর থেকেই সোলায়মান তার মেয়ে টুম্পাকে নানা ভাবে নির্যাতন করে আসছিল। একমাত্র ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে মেয়ে সংসার করছিল। তিনি কাউন্সিলর সোলায়মানকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। 
 
তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রীর কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু এবং ন্যায় বিচারের দাবি জানান।
 
মানববন্ধনে সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর শফিকুল আমিন তপন, আজাহারুল ইসলাম মোল্লা, মো. খলিলুর রহমান, আব্বাস উদ্দিন খোকন, শাহনাজ পারভিন, মাহমুদা আক্তার মুক্তি, শিল্পপতি মফিজুল ইসলাম, জাকির হোসেন, ফারুক হোসেন, ইসমাইল হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা সরবেশ আলী খান, শেখ মো. আক্কাস আলী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল্লাহ সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 
মানববন্ধন চলাকালে নিহত টুম্পার বাবা-মা ও একমাত্র ছেলে নির্জন ইসলাম নাফি (৮) কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ সময় নাফি জানায় তার বাবা প্রায় সময়ই তার মা টুম্পাকে মারধর করতো। সে তার মায়ের কাছে গেলে তার বাবা তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিত। নাফি তার মাতৃ হত্যার বিচার চায়। 
 
মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কোনাবাড়ি পারিজাত প্রাইমারি স্কুল মাঠে টুম্পার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। 
 
এ দিকে নিহত টুম্পার মরদেহ মঙ্গলবার বিকাল তিনটার দিকে গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় এসে পৌঁছলে আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
 
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোলায়মান মিয়া তার স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান নিয়ে ঢাকা উত্তরার ৭নং সেক্টরের ৪ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাসায় কয়েক বছর ধরে বসবাস করতেন।IMG0
 
১২ বছর আগে কাশিমপুরের ভবানীপুর এলাকার হাজী নুরুল ইসলামের ছেলে সোলায়মান মিয়ার সঙ্গে তার মেয়ে টুম্পার বিয়ে হয়। বিয়ের ৫ বছর পর থেকে বিভিন্ন সময় তার মেয়েকে নির্যাতন করতো সোলায়মান। সোলায়মান মিয়ার মাদকের নেশা ও নারী সংক্রান্ত ঘটনায় স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মাঝে মধ্যে ঝগড়া ঝাটি হতো। রবিবার বিকালে সোলায়মান, টুম্পা, টুম্পার ভাই সাইফ ও তার স্ত্রীসহ বসুন্ধরা এলাকায় বেড়াতে যান। সেখান থেকে যমুনা ফিউচার পার্কে যাওয়ার সময় গাড়িতে স্বামী সোলায়মান মিয়ার মোবাইলে অন্য একটি মেয়ের ছবি দেখতে পেয়ে স্বামীর সঙ্গে টুম্পার ঝগড়া ও কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রাতে সোলায়মান ও টুম্পাকে তাদের বাসায় নামিয়ে ভাই সাইদ তার স্ত্রীকে নিয়ে চলে যায়। এসময় তাদের সন্তান নাফি (৮) উত্তরাতে তার নানা নজরুল ইসলামের বাসায় ছিল। পরে রাতে কোন এক সময় টুম্পাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। বাইরে দিয়ে তালা লাগানো অবস্থায় ছিল। সকালে গৃহ পরিচারিকা বাসায় দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে টুম্পার মাকে মোবাইল করে। খবর পেয়ে তারা ওই বাসায় এসে জানালা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে খাটের উপর টুম্পার দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক টুম্পাকে মৃত ঘোষণা করেন। সন্ধ্যায় উত্তরা থানার পুলিশ টুম্পার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। নিহতের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী কাউন্সিলর সোলায়মান পলাতক রয়েছেন। 
 
নিহত টুম্পার পিতা নজরুল ইসলাম জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক মঙ্গলবার তাদের জানিয়েছেন টুম্পাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার আলামত পাওয়া গেছে।