চট্টগ্রাম টেস্ট

মুমিনুলের সেঞ্চুরিতে স্বস্তির দিন

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৩৩

শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের একটা স্পেলে বাংলাদেশের সাজানো বাগান এলোমেলো হয়ে গিয়েছিলো। ১৩ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে বিপাকে ফেলে দিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ফাস্ট বোলার। তার আগে বাংলাদেশের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন মুমিনুল হক। আর এই ঝড়ের পর বাংলাদেশকে আবার পথে এনেছেন দুই বোলার তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান। আর এদের ওপর ভর করেই চট্টগ্রামে প্রথম দিনটা স্বস্তিতে শেষ করেছে বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে তুলেছে ৩১৫ রান। সর্বোচ্চ ১২০ রান করেছেন মুমিনুল হক। আর ৫৬ রানের জুটি করে উইকেটে আছেন নাঈম ও তাইজুল।

বাংলাদেশের শুরুটা গত কয়েক টেস্টের মতোই খারাপ হয়েছিলো। এই টেস্টেই দলে ফেরা সৌম্য সরকার নিজের মুখোমুখি হওয়া দ্বিতীয় বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কেমার রোচের বলে; দলের রান তখন ১। এখান থেকে বাংলাদেশকেব ১০৪ রানের এক জুটি গড়ে খেলায় ফেরান ইমরুল কায়েস ও মুমিনুল হক।

এক প্রান্তে ইমরুল একাধিকবার জীবন পেয়ে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন ৮৭ বলে। অন্য প্রান্তে ইমরুল ফেরার পরও দারুণ স্বাচ্ছন্দ্য ছিলেন মুমিনুল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টেই খেলেছিলেন ১৬১ রানের ইনিংস। গতকাল পেলেন টানা দ্বিতীয় টেস্টে সেঞ্চুরি।

এই সেঞ্চুরিটা নানা কারণেই মুমিনুলের জন্য ও বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয় একটা সেঞ্চুরি। গতকাল নিজের ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি করলেন মুমিনুল। ফলে তামিম ইকবালের সাথে যৌথভাবে এখন তিনি দেশের সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক। এ ছাড়া গতকাল এই বছরে নিজের চতুর্থ সেঞ্চুরি পেলেন তিনি। এই ২০১৮ সালে ৪টি সেঞ্চুরি করেছেন বিশ্বে দুই জন ব্যাটসম্যান— বিরাট কোহলি ও মুমিনুল হক। কোহলির চেয়ে মুমিনুল ইনিংস খেলেছেন কম।

এর পাশাপাশি মুমিনুল তার চট্টগ্রামের রেকর্ডটাও আরও সমৃদ্ধ করে নিলেন। চট্টগ্রামে এই নিয়ে ষষ্ঠ সেঞ্চুরি করলেন এই বিভাগেরই ছেলে মুমিনুল। এক ভেন্যুতে ৬ সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানদের ছোট তালিকাতেও নিজের নাম তুলে নিলেন। রিকি পন্টিং, গ্রাহাম গুচ, মাইকেল ভন ও ম্যাথু হেইডেনের আছে এই রেকর্ড।

মুমিনুল ও সাকিব বেশ ভালোই চলছিলেন; কিন্তু এই সময় গ্যাব্রিয়েল এসে তিন ওভারে ৪ উইকেট তুলে নেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে ফিরে আসেন মুমিনুল, সাকিব, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ। মুমিনুল ১৬৭ বলে ১০টি চার ও ১টি ছক্কায় ১২০ রান করেন। সাকিব ৬৮ বলে ৩৪ রান করেন। অন্য দিকে মুশফিক ৪ ও মাহমুদউল্লাহ ৩ রান করে ফেরেন। এই সময়ে ২৩৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিলো বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজ ২২ রান করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে আসল কাজটা করেন দুই স্পিনার নাঈম ও তাইজুল।

এই ম্যাচে বাংলাদেশ তাদের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো চার বিশেষজ্ঞ স্পিনার নিয়ে খেলছে। অভিষেক হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া অফস্পিনার নাঈমের।