আজ জাতীয় গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে গণহত্যার পূর্ব নির্ধারিত নীল নকশা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ বাস্তবায়নের জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসররা ঘুমন্ত বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এক তথ্যে জানা যায় ঐ কালরাতে ১০০০০০ মানুষকে হত্যা করা হয়ছিল।
১৯৭১ সালের জুলাই মাস থেকে এই হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের ছবি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক সকলে সংগঠিত হয়ে গড়ে তোলে তীব্র প্রতিরোধ এবং শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ। অপরদিকে সংগঠিত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিহত করতে পাকহানাদার বাহিনী জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও ইসলামী ছাত্র সংঘের সহায়তায় গড়ে তোলে রাজাকার, আলবদরসহ বিভিন্ন লুটেরা ও নির্যাতনকারী বাহিনী। এদের হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় ১ কোটি মানুষ ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করে।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্রীদের তোলা নৃশংসতার ছবি ও গণহত্যার ফুটেজের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ বিভিন্ন সময়ে গণহত্যার ওপর স্মারক ডাকটিকিট, সুভেনির শিট, বিশেষ খাম ও উদ্বোধনী খাম প্রকাশ করেছে।
১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ নামে ৮টি ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়। যার একটিতে ২০ পয়সা মূল্যমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত গণহত্যা স্থান পায়। ডাকটিকিটের ওপরে MASSACRE AT DACCA UNIVERSITY ON 25 th-26 th MARCH 1971 এই কথাগুলো লেখা ছিল। নকশা করেন লন্ডন প্রবাসী বাঙালি বিমান মল্লিক। এরপর স্বাধীন বাংলাদেশে ডাক বিভাগ ১৯৭২ সালের ২৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে ২০, ৬০ ও ৭৫ পয়সা মূল্যমানের ৩টি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। ডাকটিকিটের নকশায় একটি মাথার খুলি থেকে ফুল ফুটছে এরকম ছবি স্থান পায়। নকশাকার ছিলেন কে জি মুস্তাফা। ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত প্রতিটি ৪ টাকা মূল্যমানের ৬টি স্মারক ডাকটিকিটের একটিতে স্থান পায় বধ্যভূমির ছবি। এর ডিজাইনার আনোয়ার হোসেন। এছাড়া ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরে সংগঠিত বুদ্ধিজীবী হত্যার ওপর ১৯৯১ ও ১৯৯৩ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ৯টি সিরিজে ১৮টি ডাকটিকিটের শিটলেটে মোট ১৫২ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর ওপর ১৫২টি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়। এরপর ২০১৬ সালের ২০ মে খুলনার চুকনগর গণহত্যার ওপর প্রকাশিত একটি বিশেষ খামের নকশাকার ছিলেন আনোয়ার হোসেন। সর্বশেষ বাংলাদেশ ডাক বিভাগ গণহত্যার ওপর একটি বড় উদ্যোগ নেয় এবং ২০১৭ সালের ১০ জুলাই ৭১টি ডাকটিকিট সম্বলিত শিটলেট, ১৮টি সুভেনির শিট, দুটি উদ্বোধনী খাম (একটি বড় ও একটি ছোট), তথ্যবহুল ডাটা কার্ড ও গণহত্যার ইতিহাস সম্বলিত ১৮টি সুভেনির শিটসহ ডাকটিকিট অ্যালবাম প্রকাশ করে। ডিজাইনার সনজীব কান্তি দাস, আনোয়ার হোসেন ও বনি আদম। ডাকটিকিটগুলোতে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তোলা বিখ্যাত আলোকচিত্রীদের ছবি স্থান পায়।
৭১টি ডাকটিকিটের শিটলেট ও বড় উদ্বোধনী খামটি ওয়ার্ল্ড গিনেসবুক রেকর্ডে স্থান পাওয়ার কথা। কেননা আমার জানামতে, এতোগুলো ডাকটিকিটের শিটলেট ও এত বড় খাম ইতিপূর্বে আর কোনো দেশ থেকে প্রকাশিত হয়নি। এ বিষয়ে আরো তথ্য সংগ্রহ করে এই স্বীকৃতি আদায়ের জন্য বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ও ডাক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।
