মোহামেডান তখনো কিছু বুঝে উঠতে পারেনি। তার আগেই আবাহনীর আক্রমণে বেসামাল দলটি। ঝড় সামাল দেয়ার সুযোগই দেয়নি আবাহনী। একের পর এক আক্রমণ করে মোহামেডানকে কোণঠাসা করে ফেলে আবাহনীর আক্রমণভাগের ইংলিশ ফুটবলার লিটাক, নাইজেরিয়ান সানডে চিজোবা, জুয়েল রানা আর ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা হেমন্ত ভিনসেন্ট।
মোহামেডান গোলকিপার নেহাল বুঝতে পারছিলেন- কি ঝড়ই না যাচ্ছে তার উপর দিয়ে। দেখে মনে হলো- খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নেমেছেন। নেহালও দারুণ জবাব দিয়েছেন আবাহনীর আক্রমণভাগে। ফিস্ট করে বল হেমন্তের গোলের বলটা উড়িয়ে দিয়েছেন দারুণভাবে; কিন্তু কতোক্ষণই বা পারবেন। ঝড়ে ২৫ মিনিটেই ভেঙে পড়তে হয়েছে মোহামেডানকে। আবার সেই লিটাকের ডিফেন্স চেরা থ্রুটা পেয়েই দ্রুতগতির ফরোয়ার্ড হেমন্ত বক্সের উপর থেকে গড়ানো শট করলেন, বলটা সরাসরি মোহামেডানের জালে ঠাঁই নেয় ১-০।
গোল হজম করে ঘুম ভেঙেছে মোহামেডানের। গোল শোধ করার জন্য আক্রমণে ঝাঁপিয়ে ৩৬ মিনিটে সেটপিস আদায় করে। গোলটা শোধ করার মতো সুযোগও ছিল। সজীবের বলটা মাথা লাগাতে পারেননি ইসমাইল বাঙ্গুরা। আবাহনীও ১-০ গোলে এগিয়ে থাকে। মোহামেডান দ্বিতীয়ার্ধে আবাহনীকে চেপে ধরেও লাভ হয়নি। পাল্টা আক্রমণে মোহামেডান দ্বিতীয় গোল হজম করে ম্যাচের ৮৯ মিনিটে। সানডে চিজোবা গোল করেন ম্যাচ জয় নিশ্চিত করেন ২-০। ৯০ মিনিটে ম্যাচের শেষ গোলটি করে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছেন ইংলিশ ফুটবলার লিটাক ৩-০। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নেমে মোহামেডান শেষ ২ মিনিটে আরো ২ গোল হজম করে পয়েন্ট তালিকায় আরো নিচে নামল মোহামেডান উপরে উঠল আবাহনী। হেমন্ত, সানডে এবং লিটাক- এই তিন ফুটবলার মোহামেডান শেষ করে দিয়েছেন।
মোহামেডানঃ নেহাল, ইউসুফ আলী (আশিস), বিশ্বনাথ, ইয়াইয়া সি (সেনেগাল), মিলন, মাসুক মিয়া জনি, শাহেদ (মাসুদ রানা), প্যাট্রিক (ক্যামেরুন), সবুজ (বিপলু), সজীব, ইসমাইল বাঙ্গুরা (অধিনায়ক)।
আবাহনীঃ শাকিল, ওয়ালী ফয়সাল, তপু বর্মন, মামুন মিয়া (অধিনায়ক), সামাদ ইউসুফ, ইমন বাবু, হেমন্ত, লিটাক, সানডে চিজোবা, ফাহাদ, জুয়েল রানা (শাহেদ)। রেফারিঃ জাসিম উদ্দিন।
নয়নের গোল বিফলে গেল
দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রহমতগঞ্জ কাল সকার ক্লাবের বিপক্ষে জয়টা পেতে পেতেও ১-১ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। ম্যাচটার ২৫ মিনিটে মেহবুব হাসান নয়নের নয়নাভিরাম গোল মুগ্ধ করেছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের দর্শকদের। কঙ্গোর ফুটবলার সিও জুনাপিওর থ্রু থেকে পাওয়া বলটা নিয়ে সকার ক্লাবের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ একটা প্লেস করেছেন নয়ন ১-০। দ্বিতীয় গোলটার সুযোগ দেয়নি সিও জুনাপিও। জুনাপিও বল নিয়ে ঢুকেছিলেন সকার ক্লাবের বক্সে। বাঁয়ে নয়ন দাঁড়িয়ে ফাঁকায়। তাকে দিলে গোল হতে পারতো; কিন্তু জুনাপিও নিজে গোল করতে গিয়ে বাঁধায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। গোলও করতে পারলেন না। আফসোসে মাথা ঠুকলেন রহমতগঞ্জের কোচ কামাল বাবু।
ম্যাচটা যখন শেষের পথে যাচ্ছিল উল্টো গোল হজম করতে হলো রহমতগঞ্জকে। ৮৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল হজম করলো রহমতগঞ্জ। চৌমিন রাখাইন গোল করেন ১-১। এই গোল নিয়ে বাঁধল বিতর্ক। রহমতঞ্জের দাবি ফাউল হয়নি রেফারি ভারত চন্দ্র গৌড় ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। প্রতিবাদ করায় দলের অধিনায়ক জুনাপিওকে লালকার্ড দেন রেফারি। ৭ খেলায় ১৩ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রহমতগঞ্জ। সমান ম্যাচে সকারের পয়েন্ট ৯।
