অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির সহসভাপতি সাদেক হোসেন খোকার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় থাকা ৫০ দশমিক ৮৯ একর জমি বৃহস্পতিবার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওইসব জমির মধ্যে একটি মাছের খামার ও আবাদি জমি রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রূপগঞ্জের তারাবো ও গোলাকান্দাইল এলাকায় ওই জমি বাজেয়াপ্ত করে উপজেলা প্রশাসন লাল নিশানা সাটিয়ে দেয়।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা ইসলাম জানান, দুদকের একটি মামলায় বিশেষ আদালতের নির্দেশে ৫০ দশমিক ৮৯ একর জমি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এখন এ জমি খাস করার প্রক্রিয়া চলছে। খাস করা হলে পুরো জমির মালিকানা সরকার পাবে। এর আগে সরকার গত বুধবার ঢাকার গুলশানে সাদেক হোসেন খোকার ছয়তলা ভবন বাজেয়াপ্ত করে নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া গাজিপুরেও তার মালিকানাধীন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
সম্পত্তির তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। খোকার অনুপস্থিতিতে এ বিচার চলে। চিকিৎসার জন্য জনাব খোকা সে সময়ে আমেরিকা অবস্থান করছিলেন। খোকার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ছিল তিনি অবৈধভাবে ১০ কোটি ৫ লাখ ২১ হাজার ৮৩২ টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। আদালত ওই সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন। ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার সাত বছর আগের এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন। তবে যেহেতু জনাব খোকার আপিল করার সুযোগ ছিল না এবং ইতিমধ্যে আপিল তামাদি হয়েছে তাই এটি এখন আইনানুগভাবেই সরকার বাজেয়াপ্ত করেছে।
ওই রায়ে দুদক আইনের ২৬ এর ২ ধারা অনুযায়ী ‘মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কারণে’ খোকাকে তিন বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করে আদালত। ওই টাকা দিতে না পারলে তাকে আরও এক মাস জেল দেয়া হয়। পাশাপাশি তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন বিচারক। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সাজা দেন আদালত।
২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলায় খোকার বিচার শুরু হয়। অবশ্য তার মাস ছয়েক আগেই তিনি চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।
যেসব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন আদালত: ১০ কোটি পাঁচ লাখ ২১ হাজার ৮৩২ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর যেসব সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তার মধ্যে খোকার মালিকানাধীন গুলশান ২ নম্বর সেক্টরের ৭২ নম্বর সড়কের ৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের পাঁচ কাঠা জমি এবং তার উপর ছয়তলা ভবনও রয়েছে, যার দাম দুই কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
মেসার্স বুড়িগঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় ২৭ খ- কৃষিজমি, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় ৩৪ খ- কৃষিজমিসহ মোট ৬১টি দলিলে ১৩৩.৫৯৫২ একর জমি রয়েছে। এসব জমির চার মালিকের মধ্যে খোকার অংশ হিসেবে সাত কোটি ৩৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা দামের ১০০.১৯৪৬ একর জমি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেন আদালত।
এছাড়া বুড়িগঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে হাবিব ব্যাংকে জমা করা টাকা থেকে ২৩ লাখ ১২ হাজার ৯৭৩ টাকা নিয়ে মোট ১০ কোটি পাঁচ লাখ ২১ হাজার ৮৩২ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন আদালত।
নিয়ম বহির্ভূতভাবে রাজধানীর ১০টি মার্কেটের ১৩৮টি দোকান বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগে বিএনপির নেতা সাদেক হোসেনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেছে দুদক। গত ৫ মে করা এ মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাদেক হোসেন মেযর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০০৫ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ১০টি মার্কেটের ১৩৮টি দোকান বরাদ্দ দেন।
