ওজনে কাপড় বিক্রি!

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৯, ২১:০৫

মিটার বা গজে নয়, রীতিমতো দাঁড়িপাল্লায় বাটখারা দিয়ে ও ডিজিটাল ওজন যন্ত্রে ওজন করে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের কাপড়। সব ধরনের ক্রেতার কাছে এসব দোকান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে এ রকম কাপড়ের মোকাম ও দোকান দেখা মেলে শতাধিক।

ক্রেতারা সাশ্রয়ী মূল্যে এসব দোকান থেকে কাপড় কিনতে পেরে বেজায় খুশি। ফলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকানগুলোতে ভিড় লেগেই থাকে। দূর-দূরান্তের পাইকাররাও এসব মোকাম থেকে কাপড় কিনে নিয়ে গিয়ে লাভবান হচ্ছেন।

ঢাকার বিভিন্ন গার্মেন্টেসের পোশাক তৈরির পর উদ্বৃত্ত বা বাতিলকৃত এসব কাপড় উত্তরের নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরের ব্যবসায়ীরা লট ধরে কিনে আনেন। তারপর এসব কাপড়ের পাশাপাশি নতুন কাপড় নিয়ে গড়ে তুলেছেন পাইকারি মোকাম। খুচরা ক্রেতাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা দাঁড়িপাল্লার ওজনে এসব কিনে থাকেন। সৈয়দপুর থেকে পাইকারি দরে কিনে নিয়ে তাদের দোকানে বিক্রি করে।

প্রথমদিকে ওজনে কাপড় কিনতে আগ্রহী না হলেও বর্তমানে ক্রেতারা ওজনে কাপড় কিনতে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ৮/১০ বছর আগে ওজনে কাপড় বিক্রি শুরু হলে প্রথম প্রথম মানুষের মাঝে কৌতুহল সৃষ্টি হয়। গজের কাপড় ওজনে বিক্রি দেখে অনেক নারী-পুরুষ অবাক হন। আস্তে আস্তে ওজনে কাপড় বিক্রিটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বিষয়টি বুঝতে পেরে ছোটবড় সব বয়সের মানুষের পোশাক তৈরিসহ বাড়িঘরের নানা কাজে ব্যবহারের জিনিস তৈরির জন্য কাপড় কিনতে অনেকেই ভিড় করছেন এসব দোকানে। এখানে নানা ডিজাইন ও রঙের প্রিন্ট, স্ট্রাইপ, চেক, একরঙা ভয়েল, লোন টেট্রন, সুতি, জর্জেট, বিছানার চাদর, বালিশের কভার, লিনেনসহ সব ধরণের কাপড় পাওয়া যায়।

এসব কাপড়ের বেশিরভাগই বিদেশি ও উন্নতমানের। এসব কাপড় দিয়ে বিছানার চাদর, শার্ট, থ্রিপিস, পাঞ্জাবি, পায়জামা, বালিশ ও কুশনের কভার, দরজা-জানালার পর্দা, টেবিল ক্লথ তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হচ্ছে। এরমধ্যে একরঙা ও সাদা কাপড়গুলো কিনে তাতে ব্লক, বাটিকসহ হাতের কাজ করে তা দিয়ে নানা ধরনের পোশাক তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিছানার চাদর ও কাজ করা শাড়ি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতে যাচ্ছে। এসব দোকানে চাল ডালের মতো ওজন করে কাপড় বেচাকেনায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই খুশি।

দাঁড়িপাল্লার পাশাপাশি বর্তমানে বেশিরভাগ দোকানে ডিজিটাল স্কেল ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্রেতারা ডিজিটাল স্কেলে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। কারণ এতে দামে ঠকলেও ওজনে ঠকার ভয় নেই। প্রতি কেজি কাপড় রকমভেদে ৩০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে।

উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের গৃহবধূ রেহানা বলেন, ‘ওজনে কাপড় কিনলে সস্তায় পাওয়া যায়। পাতলা কাপড় ওজনে কিনলে পরিমাণে বেশি পাওয়া যায়। তাই গজ হিসেবে কেনার চেয়ে ওজনে কিনলে অনেকটা সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়। দোকান থেকে এসব কিনে বাড়িতেই ছেলেমেয়েদের পোশাক, বালিশের কভার, বিছানার চাদরসহ নানা জিনিস তৈরি করি। এসব দোকানে নারী ক্রেতাদের সংখ্যাই বেশি। কারণ তারা বিভিন্ন মাপের কাপড় কিনে নানা বয়সের মানুষের পোশাক তৈরি ও বিভিন্ন কাজে লাগাতে পারে।’

পুরুষ ক্রেতারাও পছন্দমতো কাপড় কিনে টেইলার্সের দোকান থেকে শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, পায়জামা ইত্যাদি তৈরি করিয়ে নিচ্ছেন। অনেক দর্জি বা অল্প পুঁজির লোকেরা বিভিন্ন মাপ ও রঙের এসব কাপড় কিনে নানারকম ডিজাইন করে ছোটবড় নানা সাইজের পোশাক তৈরি করে খুচরা ও পাইকারি বাজারে বিক্রি করে জীবিকানির্বাহ করছেন। রেলওয়ে বাজারসহ পাড়া-মহল্লায় গড়ে উঠেছে এসব তৈরির প্রতিষ্ঠান।

রেলওয়ে বাজারে ওজনে বিক্রি করা কাপড় ব্যবসায়ীরা বলেন, এই ব্যবসা করে আমরা মোটামুটি ভালো আছি। প্রতিনিয়ত ক্রেতাদের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে নারী ক্রেতার সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলছে। গরিব থেকে উচ্চবিত্ত সব শ্রেণির মানুষই এসব কাপড়ের ক্রেতা বলে জানান তারা।