মৃত ভেবে দাফনের আগে কেঁদে ওঠা শিশুটিকে ফরিদপুরে রেখেই চিকিৎসা চলছে। যে হাসপাতালে শিশুটিকে জন্মের পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছিলেন, সেই ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের ইনকিউবেটরে রেখে শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ৫ মাস ২২ দিনের গর্ভাবস্থায় ভূমিষ্ঠ হওয়া কন্যাশিশুটির নাম রাখা হয়েছে ‘গালিবা হায়াত’। চিকিৎসকদের মতে, অপরিপক্ব শিশুটিকে বাঁচাতে হলে ঢাকায় আনা জরুরি। তবে দীর্ঘ সময় যাত্রা করার মতো শারীরিক অবস্থা নেই তার। সে ক্ষেত্রে একমাত্র হেলিকপ্টার দিয়ে ঢাকায় আনা যেতে পারে।
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের শিশুবিশেষজ্ঞ খোন্দকার মো. আবদুল্লাহ হিস সায়াদ জানিয়েছেন, ‘আমি বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটিকে দেখেছি। যে বয়সে শিশুটি ভূমিষ্ঠ হয়েছে, তাতে বেঁচে থাকা কষ্টকর। তবে শিশুটিকে নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দেওয়া গেলে সুফল পাওয়া যেতে পারে।
নবজাতকের দাদা মো. আবুল কালাম মিয়া জানান, ‘ওর (শিশুটি) নাম রাখা হয়েছে গালিবা হায়াত। তিনি বলেন, ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন শিশুবিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ওর বর্তমান শারীরিক যে অবস্থা, তাতে ফরিদপুর থেকে ঢাকা যাত্রার ধকল সহ্য করতে পারবে না। তা ছাড়া আমাদের মতো পরিবারের পক্ষে হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করার আর্থিক সংগতি নেই।’
ইনকিউবিটর সেক্টরের সিনিয়র স্টাফ নার্স লতা দাস জানান, চিকিৎসকরা শিশুটিকে ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কিন্তু পরিবার ঢাকায় নেয়ার আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় এখানেই চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন এর পক্ষ থেকে ওই শিশুটির চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য তিন সদস্যের একটি চিকিৎসক দল গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের ভূমিকা তদন্ত করার জন্য ৫ সদস্যের একটি টিম গঠন করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত, ফরিদপুর শহরের কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হুদা (২৬) ও নাজনীন আক্তার (২৩) দম্পতির প্রথম সন্তান। আগামী জানুয়ারি মাসে ভূমিষ্ঠ হওয়ার কথা থাকলেও শিশুটি ৫ মাস ২২ দিনের মাথায় গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ভূমিষ্ঠ হয়। জন্মের পর শিশুটিকে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা দেন। পরে সকাল ছয়টার দিকে শহরের আলীপুর কবরস্থানে দাফন করার সময় শিশুটি কেঁদে ওঠে।
