ছাত্রলীগ নেতা নিহতের জেরে ৫৫ দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ খুলে দেয়া হচ্ছে। রবিবার থেকে একাডেমিক কার্যক্রমও শুরু হচ্ছে।
গত ৩০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৬৩তম সভায় হল খোলা ও একাডেমিক কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে সকল ধরনের সভা, সমাবেশ এবং মিছিল নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য গত মঙ্গলবার বিকালে উপাচার্যের সঙ্গে জেলা পুলিশ প্রশাসনের এক বৈঠক হয়। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এদিকে ১ আগস্ট ছাত্রলীগের বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট অতঙ্ক কাটেনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বললে তারা এই প্রতিবেদককে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে এটা অনন্দের। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত দোষীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়।
গত ১ আগস্ট প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিবাদমান দুই পক্ষ। এরপর হল দখল ও অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংর্ঘষ হয়। রাতভর সংর্ঘষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মার্কেটিং বিভাগের ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও কাজী নজরুল ইসলাম হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ। এ সংর্ঘষে আরো অন্তত ১৫ জন আহত হন।
অস্থিতিশীল পরিস্থিতি রোধে ১ আগস্ট সকালে সিন্ডিকেটে ৬২তম জরুরি সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও পরীক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়। ঐ দিনই আবাসিক হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয় শিক্ষার্থীদের। একই সঙ্গে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
প্রতিবেদন জমা দেয়ার বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক কুন্ডু গোপীদাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের সাক্ষ্য পাওয়া যায়নি। সেপ্টেম্বর মাসের শেষে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।
ইত্তেফাক/এএসএস
