একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত কমে আসছে, নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নানা অভিযোগ ও দাবিতে বিএনপি’র চিঠির সংখ্যা তত বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এ ধরণের ১৩টি চিঠি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাকে দেওয়া হয়েছে। দুইটি চিঠিতে তিন জন সচিব, দুইজন বিভাগীয় কমিশনার এবং ১৭ জন জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং দলীয় সম্পৃক্তার অভিযোগ এনে তাঁদেরকে প্রত্যাহার/ বদলীর দাবি জানানো হয়েছে। একই ধরণের অভিযোগ এনে পুলিশ ও র্যাবের ৭০ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। গত ৮ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিএনপি বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বা ২০ দলীয় জোটের ব্যানারে ইসিতে অসংখ্য অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল চিঠি পৌঁছে দেন। পরে আলাল সাংবাদিকদের বলেন, ক্ষমতাসীনরা এমন আচরণ করছে, মনে হচ্ছে ভোট থেকে সরে যেতে বাধ্য করার জন্যই তারা তড়িঘড়ি করছে। আমরা অবিলম্বে সার্বিক বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সিইসির নির্দেশনা চেয়েছি, যাতে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকে।
বিএনপির চিঠিগুলোর বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে -১. মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমাদানের জন্য বিএনপি অফিসের সামনে বিশাল গণজমায়েতে পুলিশি হামলা ও গ্রেফতারে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রসঙ্গ, ২. এক থানা বা নির্বাচনী এলাকায় কর্মরত কর্মকর্তাদের অন্য থানা বা নির্বাচনী এলাকায় ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ ৩. বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তথাকথিত জরিপ প্রতিবেদনে সমতল নির্বাচনী মাঠ তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা প্রসঙ্গ, ৪. এনটিএমসি ও বিটিআরসি’র বিতর্কিত কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের পদায়ন সংক্রান্ত, ৫. একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের নিমিত্ত সব দল ও প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরির প্রয়োজনে পুলিশ বিভাগের ‘দলবাজ’ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারি কর্মকর্তাদের অবিলম্বে প্রত্যাহার প্রসঙ্গ ৬. একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের নিমিত্ত সব দল ও প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরির প্রয়োজনে জনপ্রশাসনের ‘দলবাজ’ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারি কর্মকর্তাদের অবিলম্বে প্রত্যাহার প্রসঙ্গ ৭. থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ি ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ না দেয়া প্রসঙ্গ, ৮. নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরও নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীর বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের দাবি, ৯. লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, ১০.সিটি কর্পোরেশেন ও সরকারি মালিকানাধীন ইলেক্ট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড এবং ডিজিটাল বিল-বোর্ডে উন্নয়ন প্রচারণা বন্ধ করা প্রসঙ্গ এবং ১১. গণহারে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ প্রসঙ্গ। এছাড়া পৃথক অভিযোগে বিটিআরসির বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের অফিসের ইন্টারনেটসহ স্কাইপ বন্ধের অভিযোগ এনেছে ঐক্যফ্রন্ট।
তালিকা জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সরকারের এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। এগুলোর প্রতিকার চেয়েছি। ভবিষ্যতে যাতে এসব না ঘটে। আর যারা এসব করেছেন তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
