ডিসিসিআইয়ের সেমিনারে শিল্পমন্ত্রী

‘অর্থনৈতিক অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্পকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে’

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৯:৫৯
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে সরকার কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রসারের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। 
 
তিনি বলেছেন, নতুন করে যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে, সেগুলোতে কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে।
 
শনিবার বিকেলে রাজধানীর ডিসিসিআই মিলনায়তনে আয়োজিত “জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬ ঃ বাংলাদেশে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 
 
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এ সেমিনার আয়োজন করে। ডিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন রশীদের সভাপতিত্বে সেমিনারে নিবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। সেমিনারে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির নির্বাহী সদস্য নাভাস চন্দ্র মন্ডল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনোজ কুমার রায়, নারী শিল্প উদ্যোক্তা কাজী মুন্নি, শিল্প উদ্যোক্তা খন্দকার শহীদুল ইসলাম আলোচনায় অংশ নেন।
 
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, টেকসই শিল্পখাত বিকাশে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দিতে সরকার জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬ ঘোষণা করেছে। শিল্পায়নের স্বার্থে এতে নতুন কিছু সংযোজনের প্রয়োজন হলে সরকার এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেবে। শিল্পখাতে গতি আনতে নতুন শিল্পনীতির আলোকে সম্ভাবনাময় শিল্পগুলোতে ক্লাস্টারের আওতায় নিয়ে আসার পাশাপাশি প্রযুক্তি স্থানান্তরের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ওষুধ, চামড়া, হালকা প্রকৌশল, ইলেক্ট্রনিক, প্লাস্টিক, কেমিক্যালসহ উদীয়মান শিল্পখাতগুলোর উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
 
সেমিনারে বক্তারা বলেন, শিল্প নীতিতে উচ্চ অগ্রাধিকার ও অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করায় দেশে শিল্পায়নে গতি আসবে। তারা শিল্পনীতির যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য একে একটি আইনি কাঠামোতে রূপ দেয়ার পরামর্শ দেন। একই সাথে জ্ঞানভিত্তিক শিল্পের প্রসারে শিল্পনীতির আলোকে একটি গবেষণা ও উন্নয়ন সেল গঠনের তাগিদ দেন। তবে নতুন শিল্পনীতিতে সুনির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন না হলে জাতীয় অর্থনীতিতে এর সুফল পাওয়া সম্ভব নয় বলে তারা উল্লেখ করেন। বক্তারা জাতীয় শিল্পনীতির আলোকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন, শ্রমিক নিরাপত্তা জোরদারে শতভাগ শিল্প কারখানাকে বীমার আওতায় নিয়ে আসা এবং এসএমই উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে স্বল্পমূল্যে জমি, জ্বালানি ও ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 
 
 
 
ইত্তেফাক/এমআই