সড়কে বিশৃঙ্খলা কি চলিতেই থাকিবে?

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৯, ২১:৩২

দুই শিক্ষার্থীকে একটি বাস চাপা দিয়া হত্যা করিবার পর, ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন শুরু করে বিদ্যালয়-মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেই আন্দোলন নাকি প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের চক্ষু খুলিয়া দিয়াছিল। কিন্তু সেই চক্ষু মুদিত হইতে বেশি সময় লাগে নাই। সকল কিছুই চলিতেছে পূর্বের ন্যায়। দেশে আজও প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ জন নিহত হইতেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। ১৯ মার্চ রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবরারকে বাসচাপা দিবার পূর্বে এক তরুণীকেও বাসচাপা দিয়েছিলেন সুপ্রভাত পরিবহনের চালক সিরাজুল ইসলাম। ওই তরুণীকে চাপা দিয়া পালাইয়া আসেন ওই চালক। আবরারকে হত্যা করিয়াও পালাইবার চেষ্টা করিয়া ব্যর্থ হন বেপরোয়া ওই চালক। এইদিকে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের প্রাইভেটকারে ধাক্কা দেওয়া বাসের কাগজপত্র ঠিক থাকিলেও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। উভয়ক্ষেত্রেই মামলার বোঝা লইয়া সর্বপ্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করিয়া বাসদুইটি রাস্তায় চলাচল করিতেছিল বলিয়া জানা যায়।

চালকরা যদি এইরূপ দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বেপরোয়া হয়, তবে দুর্ঘটনা কমিবে না। অন্যদিকে আইনের শাসনের অভাবে একজনকে আহত করিয়া, আরেকজনকে নিহত করিতে সময় লাগিবে না। সবচাইতে বড় বিষয় হইল পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি নাই, সবকিছুই যেন গা-সওয়া হইয়া গিয়াছে। একেকটি দুর্ঘটনা ঘটে, যদি কোনো আন্দোলন হয়, কর্তাব্যক্তি ও পুলিশের তত্পরতা বৃদ্ধি পায়, প্রচুর মামলা হয়, কিন্তু একসময় সকলই স্তিমিত হইয়া যায়। আর যদি আন্দোলন প্রতিবাদ না হয়, তবে সবই পূর্বেকার ন্যায় চলিতে থাকে। গত বছরের আন্দোলনের উদ্দিষ্ট ছিল যেই বাস-কোম্পানি, সেই জাবালে নূরের বাস ঠিকই রাস্তায় চলাচল করে। সুপ্রভাত পরিবহনও চলাচল করিবে, তাহাদের মেয়াদোত্তীর্ণ জরাজীর্ণ বাসটিও চলিবে। রাজধানী ঢাকায় দালান-কোঠা-রাস্তা-ঘাট উন্নত ও সুদৃশ্য হইতেছে, কিন্তু সেই রাস্তায় যেই জরাজীর্ণ বাস চলে, তাহার রূপ বড়ই প্রকট। বহু মানুষের শহরে এক চরম বিশৃঙ্খলার সহিত চলাচল করিতেছে যানবাহন ও মানুষ।

প্রশ্ন হইল, এই পরিস্থিতির উন্নতি হইবে কী প্রকারে? যেহেতু সড়ক ব্যবস্থাপনায় কোনো উন্নতি হইতেছে না, মানুষজনকে সড়কের তুলনায় অন্যান্য পথে চলাচলের ব্যবস্থা করিয়া দিতে হইবে। শহর ও দেশজুড়িয়া অধিক রেলপথের ব্যবস্থা করিতে হইবে। প্রতিটি মহাসড়কে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্পিডগান ও চালক লাইসেন্স পরীক্ষার যন্ত্র দিতে হইবে। এক-দুই কিলোমিটার পরপর বিশেষ ক্যামেরা স্থাপন করিতে হইবে যাহাতে ক্যামেরার তথ্য বিশ্লেষণ করিয়া আইনি ব্যবস্থা লওয়া যায়। রাস্তার বাঁকগুলি সোজা করিতে হইবে। সকল মহাসড়ককেই ন্যূনতম চার লেনে উন্নীত করিতে হইবে, ডিভাইডারসহ। সিরাজগঞ্জ-বনপাড়া মহাসড়কে যেমন ধীরগতির ও ক্ষুদ্র যানবাহনের জন্য পৃথক লেন রহিয়াছে, তেমনি সকল মহাসড়কেই এই ব্যবস্থা রাখিতে হইবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে যাবতীয় দুর্নীতি বন্ধ করিতে হইবে। মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন রাস্তা হইতে উঠাইয়া লইতে হইবে। কিছুকাল পর হঠাত্ হঠাত্ অভিযান চালাইয়া এই কাজটি সম্পন্ন করিলে হইবে না। ইহার সার্বক্ষণিক তদারকি পদ্ধতি দাঁড় করাইতে হইবে। তবে সমস্যা হইল পরিবহন সমিতি শক্তিশালী হওয়ায় অভিযুক্ত ড্রাইভারদের শাস্তি প্রদানও অনেক সময় কঠিন হইয়া যায়।