মহাসড়ক নয়, যেন ছোট-বড় গর্ত!

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৫:০৮
 
ফকিরহাটের টাউন নওয়াপাড়া হতে কাটাখালী হয়ে শ্যাম্বাগাত এক্সেল লোর্ড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তা যেন আর মহাসড়ক নয়, বরং ছোট-বড় গর্ত। সারা বছর ধরে সংস্কার চললেও খানাখন্দর ও টিলা যেন এ সড়কের চিরচেনা দৃশ্য। অপরিকল্পিত ভাবে সড়ক সংস্কারে সৃষ্ট বিপজ্জনক গর্তে বৃষ্টি হলেই পানি জমে আর রোদ হলে ধুলা বালুতে পথচারীদের চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
 
অভিযোগ রয়েছে  নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ফলে প্রায় কোটি টাকার অর্থ অপচয়সহ প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা।
 
সরেজমিনে পরিদর্শন কালে জানা যায়, খুলনা, মংলা, বাগেরহাট ও মাওয়া সড়কের সকল যানবাহ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে সবসময়। ভারি যানবাহনের চাপে সৃষ্ট ছোট বড় গর্ত সংস্কার চলছে প্রায় সারা বছর ধরে। এর ফলে সরকারের কোটি টাকার অর্থ অপচয় হলেও অদ্যাবধি দীর্ঘস্থায়ী কোন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হয়নি। অধিক ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য খুলনা-মংলা মহাসড়কের শ্যামবাগাত এলাকায় নামমাত্র এক্সেল লোর্ড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কার্যক্রম উদ্বোধন করলেও তা অদ্যাবধি চালু না হওয়ায় এবং হাইওয়ে পুলিশের নজরদারীর অভাবে অহরহ চলছে অধিক ভারি যানবাহন। এর ফলে সড়কে সৃষ্ট বিপজ্জনক গর্ত ও টিলার ফাঁদে পড়ে যানবাহনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব বরণের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
 
ট্রাক চালক আসাদুজ্জামান বলেন, অতিভারী যানবাহনের দাপটে সড়কে চলাচল করতে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। কাটাখালী থেকে নওয়াপাড়া হয়ে শ্যাম্বাগাত মোড় পর্যন্ত সড়কের গর্তে পড়ে যানবাহনের যেমন ক্ষতি হচ্ছে অন্যদিকে দুর্ঘটনা বাড়ছে।
 
IMG0
 
পিলজংগ ইউপি চেয়ারম্যান খান শামিম জামান পলাশ জানান, নওয়াপাড়ায় অবস্থিত কয়েকটি বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানের আগত শ্রমিকসহ স্কুল কলেজ মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে সাইড সোলডার দিয়ে যানবাহন চলাচল করায়  সড়কের পাশের গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত এক্সেললোর্ড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র চালু করে এ সড়কটি নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
 
এ ব্যাপারে বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মামুন কাইসার এই প্রতিবেদককে জানান, এ সড়কের বেইজ অধিক ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় সংস্কার করলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
ইত্তেফাক/আরএ