সোনালী ব্যাংক থেকে পটুয়াখালী জুট মিলসের নামে নেওয়া ঋণ নবমবারের মতো পুনঃতফসিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। রিট আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার এম মাইনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আসম ফিরোজ পটুয়াখালী জুট মিলসের একজন পরিচালক। যেহেতু ঋণ পুনঃতফসিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে আদালত সেহেতু তিনি বর্তমানে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। ফলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।
সোনালী ব্যাংক থেকে আসম ফিরোজের মালিকানাধীন মেসার্স পটুয়াখালী জুট মিলস লিমিটেড আশির দশকে ঋণ নিয়েছিল। বর্তমানে ওই ঋণ সুদে-আসলে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গত ১৯ আগস্ট সোনলী ব্যাংকের পরিচালনা পর্যদ ঋণের সুদ মওকুফ করে নবমবারের মতো ওই ঋণ পুনঃতফসিল করে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক তা অনুমোদনও দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন আওয়ামী লীগের নেতা বাউফলের পৌর মেয়র মো. জিয়াউল হক।
আবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশনস অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের (বিআরপিডি) ১৫তম সার্কুলার অনুযায়ী কোনো ঋণ তিনবারের বেশি পুনঃতফসিল করা যায় না। কিন্তু পটুয়াখালী জুট মিলস লিমিটেডের নামে নেওয়া ঋণ সোনালী ব্যাংক ১৯৯৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত নয়বার পুনঃতফসিল করেছে। যা বেআইনি।
আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পাশাপাশি রুল জারি করে। রুলে ঋণ পুনঃতফসিলের সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া পটুয়াখালী জুট মিলের ঋণ বারবার পুনঃতফসিল করার ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতা মানতে সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারি করে আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদেরকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
