পানি যখন সোনার চেয়ে দামি!

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৯, ২১:৪৯

ভেনিজুয়েলা সংকট

আশেক খান আলেখীন

 

ভেনিজুয়েলায় চরম অর্থনৈতিক মন্দা আর রাজনৈতিক টানাপড়েনের প্রভাব পড়েছে দেশটির সরকারি সেবাখাতগুলোতেও। বিগত কয়েক মাস যাবত্ দেশটিতে পানির তীব্র সংকট চলছে। পুরনো লাইনগুলো সংস্কার না করায় যত্রতত্র পাইপের লিকেজের কারণে এমনিতেই সেখানে পানির সংকট চলছিল, তার ওপর চলতি মাসের শুরু থেকে টানা বিদ্যুত্ না থাকায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। অবস্থা এখন এতই খারাপ যে লোকজন পুকুর, নদী-নালার নোংরা পানিও ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। জলাশয়ের ধারের মানুষের সেই সুবিধাটুকু থাকলেও অন্যদের তাও নেই।  দূরে কোথাও সামান্য পানি থাকার খবর পেলে তা আনতে ধেয়ে যাচ্ছে সবাই। সবার মধ্যে রীতিমত প্রতিযোগিতা লেগে যাচ্ছে। কোনোমতে কিছুটা পানি যোগাড় করে আনা গেলেও সেই সামান্য কয়েক লিটার পানিতে কি আর পুরো পরিবারের চাহিদা মেটে? কিন্তু উপায় নেই। ওই কয়েক লিটার পানি দিয়েই গোসল করা, কাপড়-হাঁড়িপাতিল ধোয়া এবং রান্নার কাজ সারতে হচ্ছে লোকজনকে। অবস্থাপন্নরা বোতলজাত পানি কিনে তাদের চাহিদা কিছুটা মেটাতে পারলেও দরিদ্রদের সেই উপায়ও নেই। ৫ লিটার পানি দুই ডলার দিয়ে কেনা কি চাট্টিখানি কথা! তবে ধনীরাও খুব ভালো নেই। কতদিন আর পানি কেনা যায়!

জানা যায়, ভেনিজুয়েলার অনেক বহুতল ভবনের লিফট অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে কোথাও পানি মিললেও তা সিঁড়ি দিয়ে উপরে বয়ে নিতে লোকজনকে গলদঘর্ম হতে হয়।  উদিথ কনট্রেরাস নামে ৫০ বছর বয়সী এক আইনজীবী দুঃখ করে বললেন, আমরা গোসল করি বড় গামলার ওপর দাঁড়িয়ে। গোসল শেষে গামলায় জমা পানি দিয়ে বাথরুমের কমোড ফ্লাশ করা, রান্নাঘর পরিষ্কারসহ বিভিন্ন কাজ সারি।

ইউনিসি ফ্লোরস নামে এক ঠিকাদারও জানালেন একই ধরনের কথা। তিনি আরও জানান, তিন বছরের মেয়েকে তিনি রান্নাঘরের সিংকের মধ্যে গোসল করান আর সিংকে জমানো পানি দিয়ে বিভিন্ন কাজ সারেন। ফ্লোরস দুঃখ ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, ‘এ বড় কঠিন জীবন। পানি ছাড়া আমাদের এখন বেঁচে থাকাই দায়। পানি এখন আমাদের কাছে সোনার চেয়েও দামি।’ ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অবশ্য বলছেন, দীর্ঘ খরার কারণেই দেশে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। তবে সেই সঙ্গে তিনি জুয়ান গুয়াইদোর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলকেও দুষছেন। বলছেন- বিরোধী দলই স্যাবোট্যাজ করে দেশের পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতা জুয়ান গুয়াইদোও ছেড়ে কথা কইছেন না। বলছেন- মাদুরো সরকার দেশের পানির লাইনগুলো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করার কারণেই বর্তমান সংকট দেখা দিয়েছে। তারা দু’জন পরস্পরকে দুষে যাচ্ছেন আর জনগণ পানির অভাবে মরতে বসেছে। ‘হিমালয় পর্বতসম’ এ সংকটের সমাধান যে কিভাবে হবে তা জানা নেই কারো!