সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের রাস্তা-ঘাটের বেহাল অবস্থা

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০১:৫০
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা। উপজেলা শহর এলাকার বেশিরভাগ রাস্তাই কাঁচা। পাকা রাস্তাগুলোও সংস্কারের অভাবে কার্পেটিং উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার সময় হাঁটুপানি জমে থাকে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাস্তাঘাট উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
 
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা শহরের একাধিক রাস্তায় জমে আছে হাঁটুপানি। কোনো কোনো রাস্তায় এক থেকে দুই ফুট কাদা। বিশেষত ডিগ্রি কলেজ রোড, পাবলিক লাইব্রেরি থেকে পশ্চিমপাড়া পর্যন্ত প্রধান সড়ক, তুলসিঘাট রোড, ধাপেরহাট সড়ক, উপজেলা পরিষদের সামনের সড়ক, কাসারিয়া পট্টি এবং থানার সামনে থেকে কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ হয়ে সাহাপাড়া পর্যন্ত রোডের অবস্থা খুবই করুণ। এর মধ্যে বর্ষা মৌসুমে ডিগ্রি কলেজ রোড, কাসারিয়া পট্টি এবং তুলসিঘাট রোড এলাকায় কয়েক মাসব্যাপী জলাবদ্ধতা স্থায়ী থাকে। ডিগ্রি কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নুরুন নবী বলেন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে প্রায় তিন মাস ধরে এই এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
 
উপজেলার হামিন্দপুর এলাকার রিকশাচালক শহিদুল ইসলাম জানান, একন আওয়ামী লীগের সরকার ক্ষমতায় আচে। হামারঘরে এমপি আওয়ামী লীগের নোক। তাও আস্তা ভালো হয় না। পোত্তেকদিন যে ট্যাকা কামাই করি, তাক একশা (রিকশা) ভালো করতে চলি যায়। সাদুল্লাপুর আলোকিত নাগরিক পরিষদের সভাপতি শামসুজ্জোহা রাঙ্গা বলেন, সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরটি ছোট। সামান্য কয়েক কিলোমিটার পাকা সড়ক। উপজেলা প্রশাসন ও পরিষদের একটু নজরদারি থাকলেই রাস্তা-ঘাটের অবস্থা এত বেহাল দশা হত না।
 
উপজেলা শহরের কলেজ শিক্ষক প্রভাষক মাহমুদুল হক মিলন বলেন, ডিগ্রি কলেজ রোডে উপজেলা ভূমি অফিস, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, গরু-ছাগলের হাট, উপজেলার কেন্দ্রীয় মন্দির, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বেশ কয়েকটি বিপণী বিতান অবস্থিত। অন্যদিকে উপজেলা মূল সড়কটিই হলো পাবলিক লাইব্রেরি থেকে পশ্চিমপাড়া প্রধান সড়ক। এই সড়কটির পাশে থানা ভবন, তরিতরকারির পাইকারী আড়ত্, উপজেলার কেন্দ্রীয় মসজিদ, অগ্রণী ব্যাংকসহ উপজেলার প্রবেশদ্বারও বলা যায়। কিন্তু কেনো এ সড়কগুলোর বছরের পর বছর এই বেহাল অবস্থা। কর্তৃপক্ষ সেই মূল সমস্যটি ভাবে না। মূলত কার্যকরি ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা এবং সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের সময় অবস্থানগত মূল সমস্যাটি চিহ্নিত না করে ঢালাওভাবে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ করে সরকারি টাকা অপচয় করার কারণে আজ এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আহ্সান হাবিব জানান, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাতে এই কাজগুলো করেন। সে বিষয়ে তিনি পদক্ষেপ নেবেন।
 
 

ইত্তেফাক/এএন