জিএসপি ফিরে পাওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৬, ১৫:২৬
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো শর্ত পূরণ বাকি নেই, সকল শর্ত ইতোমধ্যে পূরণ করা হয়েছে। এরপরেও কেন আমাদের জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দেয় না, তা বোধগম্য নয়। সব কথা বলা যায় না। কিন্তু আমি মনে করি বিষয়টি রাজনৈতিক। গতকাল মঙ্গলবার সংসদে প্রশ্নোত্তরকালে সিলেট-৫ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য সেলিম  উদ্দিনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
 
জিএসপি প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ আরো বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ঢাকা সফর করে গেছেন। এ সময় বিষয়টি নিয়ে আমাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আমাদের বক্তব্যে কেরি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এবার জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে জিএসপি ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
 
নাটোর-১ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এবার কোরবানির গরুর চামড়ার মূল্য নিয়ে প্রথমে কিছু সমস্যা থাকলেও এখন সেটি ঠিক হয়ে গেছে। ট্যানারি মালিকরা এখন নির্ধারিত মূল্যেই চামড়া কিনছেন।
 
লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের মো. আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ সংসদকে জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির কারণে দেশিয় বাজারে কয়েকটি পণ্যের মূল্য বেড়েছে। সরকার নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করেছে। মৌলভীবাজার-২ আসনের আব্দুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির জন্য ভবিষ্যতে যেন কোনো অসাধু ব্যবসায়ী মহল গড়ে উঠতে না পারে সেজন্য ‘প্রতিযোগিতা কমিশন’ গঠন করা হয়েছে।
 
মাদারীপুর-৩ আসনের আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিমের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী গত সাড়ে সাত বছরে গড়ে দ্রব্যমূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এই বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৯ শতাংশ।
 
সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে শোক
 
তোফায়েল আহমেদ এর শোক
 
সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মৃত্যুতে সংসদের সকল সদস্যের পক্ষে গভীর শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে সংসদে ফ্লোর নিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন ‘মাননীয় স্পিকার (এসময় সংসদে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়াকে উদ্দেশ্য করে), একটি অত্যন্ত দুঃখের সংবাদ দেয়ার জন্য আমি দাঁড়িয়েছি। আমাদের সবার অত্যন্ত প্রিয়, বরেণ্য কবি, সাহিত্যিক ও নাট্যকার সৈয়দ শামসুল হক আর আমাদের মাঝে বেঁচে নেই। আমরা তাকে হারিয়ে ফেলেছি। এই সংসদে হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে তার ওপর শোক প্রস্তাব আনা হবে। এখন সংসদের সকল সদস্যের পক্ষ থেকে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
 
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিভিন্ন সময় যখন তিনি যেই দায়িত্ব নিয়েছেন সেটি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। এবারও আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন কমিটির প্রধান করা হয়েছিল শামসুল হককে। তার ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে কুড়িগ্রামে দাফন করা হবে। পরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে তার ওপর শোক প্রস্তাব আনা হবে। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৈয়দ শামসুল হকও কুড়িগ্রামে গিয়েছিলেন, তখন আমার বাড়ি গাইবান্ধায় শুনে তিনি বেশ খুশি হন।
 
 

ইত্তেফাক/এএন