সামান্য বৃষ্টিতেই বগুড়া শহরে জমে হাঁটু পানি

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০১:৪০
একটু বৃষ্টিতেই বগুড়া শহরে জমে যায় হাঁটু পানি। সোমবার কয়েক ঘন্টা থেমে থেমে বৃষ্টিতে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক পানিতে ডুবে থাকে।
 
সোমবার বেলা ১১টা থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ সময় শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত সাতমাথা, কবি নজরুল ইসলাম সড়ক, এমএ খান লেন, সার্কিট হাউজ সড়ক, চকযাদু রোড, প্রেসপটি লেন, জহুরুল নগরসহ বেশিরভাগ এলাকা হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। এরই ফলে শহরে ব্যাপক যানজট শুরু হয়। যানজট ও জলজট পাড়ি দিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ে চাকরিজীবী, পেশাজীবী, সাধারণ মানুষ, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ অনেকেই।
 
এদিকে দীর্ঘদিন যাবত্ একটু বৃষ্টিতেই এই জলজটের সৃষ্টি হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। বারবার আশ্বাসের বাণী শোনানো হলেও পৌরবাসীকে এই দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। শহরের চকযাদু রোডের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম আক্ষেপের সাথেই কথাগুলো বললেন। একই অভিযোগ বজলুর রহমান, হোটেল ব্যবসায়ী রাজ্জাক হোসেন ও ফার্নিচার ব্যবসায়ী সোহেল রহমানের। শহরের বাদুড়তলা এলাকার এসব বাসিন্দা ছাড়াও জহুরুল নগরের রফিজ মিয়া, সিদ্দিকুর রহমান, সাতমাথার ব্যবসায়ী নিকুঞ্জ, সালামসহ সকল ভুক্তভোগী জানান, প্রতিবারই পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কাজের কাজ কিছুই হয় না।
 
ড্রেনেজ সংস্কার না থাকায় বৃষ্টির পানির সাথে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনায় ভরে যায় শহর। শহরের রাস্তায় তখন ভেসে থাকে ময়লার স্তূপ। এসব নোংরা ও দূষণ পানি পেরিয়ে শহরবাসীকে প্রয়োজনীয় কাজ করতে হচ্ছে। নোংরা পানির মধ্য দিয়েই স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পথচারীদের এ নিয়ে অনেক অভিযোগ থাকলেও বগুড়া পৌরসভা থেকে নেয়া হয়নি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। বগুড়া আবহাওয়া অফিস বলছে সোমবার বগুড়ায় ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। শহরবাসী পৌর এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার দাবি করেছে।
 
এ ব্যাপারে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, ড্রেনগুলো পরিষ্কার করার একটি কর্মসূচি নেয়া আছে। আশা করা যায় দুর্ভোগ কিছুটা কমবে। সহকারী প্রকৌশলী রেজা জানান, বৃষ্টির পরপরই পৌরসভার একটি টিম শহরে ঘুরে বেড়ায়। যেখানে জলাবদ্ধতা থাকে সেখান থেকে পানি নেমে যাবার ব্যবস্থা করা হয়।
 
পৌর মেয়র অ্যাড: একেএম মাহবুবুর রহমান বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শহরে নতুন ছয় কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর বাইরে বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। এটি হলে শহরে জলাবদ্ধতা থাকবে না।
 
 

ইত্তেফাক/এএন