ফরিদপুরে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুত্ লাইনের নিচে অর্ধশত পরিবারের বসবাস!

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৯, ২২:০২

তরিকুল ইসলাম হিমেল, ফরিদপুর প্রতিনিধি

জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইনের নিচে অর্ধশতাধিক পরিবার মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। যেকোনো মুহূর্তে নেমে আসতে পারে মহাদুর্যোগ। কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুর শহরের বাইপাস সড়কের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশ দিয়ে ওজোপাডিকোর ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন চলে গেছে। এই লাইনের মাঝ বরাবর ব্রাহ্মণকান্দা এলাকায় প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার বসবাস করে। ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন এই বসত ঘরগুলোর উপর দিয়ে যাওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে পরিবারগুলো।

ব্রাহ্মণকান্দা এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী শেখ বাশার জানান, আমার বসতঘরের উপর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুত্ লাইন চলে গেছে। দীর্ঘদিন যাবত্ আমরা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছি। বিদ্যুত্ লাইনের কারণে ঘরবাড়ি মেরামতও করতে পারছি না। ঝড়-বাতাস হলে পরিবার পরিজন নিয়ে প্রতি মুহূর্তে শঙ্কার মধ্যে থাকছি। এ ছাড়া লাইনের পিলার বাসার পাশে খালের মধ্যে থাকায় পানিতে নামতেও আমরা ভয় পাই। লাইনটি সড়ানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে লিখিত আবেদন করা হলেও দীর্ঘদিন যাবত্ তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

ব্রাহ্মণকান্দা এলাকার একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, আমরা প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার এরকম ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও টনক নড়ছে না বিদ্যুত্ বিভাগের। আমাদের জানমালের কোনো মূল্যই যেন নেই তাদের কাছে। বিদ্যুত্ লাইন সড়ানোর মতো যথেষ্ঠ জায়গা থাকা সত্ত্বেও তারা আমাদেরকে দীর্ঘদিন যাবত্ মৃত্যুর ঝুঁকির মধ্যে রেখে দিয়েছে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

ওজোপাডিকো ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিপণন) মো. মুরশীদ আলম জানান, ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুত্ লাইন সরানোর ব্যাপারে ব্রাহ্মণকান্দা এলাকাবাসীর লিখিত আবেদনটি আমলে নিয়ে সুপারিশসহ খুলনায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ওজোপাডিকো খুলনা কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এটিএম তারিকুল ইসলাম (পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেল, ফরিদপুর) জানান, ব্রাহ্মণকান্দা এলাকাবাসীর লিখিত আবেদনটি আমি পেয়েছি। ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন সরানোর ক্ষমতা আমাদের নেই। এটা সম্পূর্ণভাবে সদর দপ্তরের এখতিয়ারে। আবেদনটি সুপারিশ করে আমি সদর দপ্তরে পাঠিয়েছি। সদর দপ্তর থেকে অনুমোদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।