সারিয়াকান্দিতে ১১২ বস্তা ত্রাণের চাল জব্দ

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১০:৫২
 সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ত্রাণের চাল  খাদ্য ব্যবসায়ীর গুদামে পাচার হয়েছে সন্দেহে ১১২ বস্তা (সাড়ে চার টন) চাল জব্দ করেছে বগুড়ার সারিয়াকান্দি থানা পুলিশ। গত ৮ সেপ্টেম্বর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম ওয়াহেদুজ্জান সারিয়াকান্দি  পৌর এলাকার খাদ্য ব্যবসায়ী মতিউর রহান মতির গুদাম  থেকে  চাল জব্দ করে থানায় নিয়ে আসেন। এ ব্যাপারে ওই দিন খাদ্য ব্যাবসায়ীর বিরুদ্ধে থানায়  মামলা হয়েছে। মামলা নং ৪। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (পিআইও) সারোয়ার আলম বাদী হয়ে এই মামলা  করেন।  এ ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
 
এদিকে  খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মনিরুজ্জামান তাৎক্ষণিক  সরকারি খাদ্য গুদাম তদন্ত করেন। তদন্তে খাদ্য  গুদামের স্টক এবং রেজিস্ট্রারে মিল থাকায় খাদ্য গুদাম থেকে ওই ত্রাণের চাল পাচার হয়নি বলে ইউএনও জানান।
 
প্রসঙ্গত, ঈদের আগে দুস্থ মানুষের মাঝে ১৫৫ টন ত্রাণের চাল বিতরণ করা হয়।
 
মতিউর রহমান মতি বলেন, ‘আমি একজন খাদ্য ব্যবসায়ী। ব্যবসার উদ্দেশে উপকার ভোগী ও ফড়িয়াদের কাছ থেকে আমি এই চাল কিনেছি।’
 
পিআইও  জানান, ‘সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে ত্রাণের চাল বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণকালে কোনো দুর্নীতি- অনিয়ম হয়নি। সংশ্লিষ্ট স্ট্যাক অফিসাররাও  একই কথা বলেন।
থানায় মামলার কারণ জানতে চাইলে পিআইও বলেন, পুলিশের অভিযোগ  এবং ইউএনও স্যারের নির্দেশে মামলা করেছি। ওসি এএসএম ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, ‘চালের বস্তায় খাদ্য বিভাগের সীল থাকায় প্রমাণ হয় এগুলো গুদাম থেকে পাচার হওয়া ত্রাণের চাল।’
 
তিনি বলেন, ‘প্রথমে কেউ মামলা করতে রাজি হয়নি। কিন্তু খাদ্য সংক্রান্ত ব্যাপারে পুলিশ মামলা করলে পিআইও এবং এলএসডিকে জড়ানো হবে।  আর এ কারণেই বাধ্য হয়ে মামলা করা হয়েছে।’
 
এলএসডি ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘ইউএনও স্যার তদন্ত করে দেখেছেন আমার গুদাম থেকে ত্রাণের চাল  পাচার হয়নি। তিনি বলেন চেয়ারম্যানরা চাল বিতরণের পর  খালি বস্তা  বাজারে বিক্রি করে পরিবহন খরচ মিটায় । তাই খাদ্য বিভাগের সীলযুক্ত বস্তা হলেই এলএসডি থেকে পাচার হয়েছে  বলে প্রমাণ হয়না।’
 
ইউএনও জানান, গুদাম তদন্ত করে দেখেছি সেখান থেকে ত্রাণের চাল পাচার হয়নি।
 
তিনি বলেন, ‘উপকার ভোগীরা অনেক সময় ত্রাণের মোটা চাল  বিক্রি করে অন্যান্য চাহিদা মিটায়। ওই ব্যবসায়ী সম্ভবত তাদের কাছ থেকে চাল কিনে থাকতে পারেন। ’
 
তিনি বলেন, ‘খাদ্য বিভাগের সীলযুক্ত বস্তা বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। তাই এটা যাচাই করা দুরহ।’
 
এলাকাবাসীর অভিমত, গুদাম থেকে সরবরাহকৃত দুই সিদ্ধের মোটা চাল কেউ খেতে চায় না। তাই ত্রাণের চাল উপকার ভোগীরা বাজারে বিক্রি করে থাকে।
 
ইত্তেফাক/এএমএমইউ