মেলান্দহে স্লিপ-প্রাক-উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মামলা

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১১:৪০
মেলান্দহে স্কুল লেভেল ইমপ্রোভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) ও প্রাকপ্রাথমিক প্রকল্পে দুর্নীতি-অনিয়মসহ উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।
 
জানা গেছে, ১৫৭টি প্রাইমারির ৪০ হাজার করে স্লিপ প্রকল্পের মোট ৬২ লাখ ৮০ হাজার এবং প্রাকপ্রাথমিকের পাঁচ হাজার করে সাত লাখ ৮৫ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ৭০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
 
শিক্ষা অফিস জানায়, প্রকল্পের বরাদ্দ পেতে দাখিলকৃত চাহিদাপত্রের ছকের বাইরে অর্থ ব্যয়ের সুযোগ নেই। হাতে গোনা কয়েকটি প্রাইমারি স্কুল ছাড়া বাকি প্রায় প্রতিষ্ঠানই অনিয়ম-দুর্নীতি আশ্রয়ে অর্থ লোপাট করেছে। স্লিপ, প্রাকপ্রাথমিক ছাড়াও বেশ কয়েকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষামন্ত্রণালয় ও উপবৃত্তির মনিটরিং অফিসারসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ এসেছে। অর্থ অপচয়-আত্মসাত-অনিয়মের বিষয়টি অবশেষে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
 
পশ্চিম তেলীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিদাতা-প্রতিষ্ঠাতা ফজলুল হক বাদী হয়ে মামলাটি ৫ সেপ্টেম্বর দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, দুর্নীতি-অনিয়মের আশ্রয়ে উপবৃত্তি-প্রাকপ্রাথমিকের বরাদ্দের টাকার কাজকে স্লিপ প্রকল্পের নামমাত্র কাজ দেখিয়েছেন প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম। অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে জনস্বার্থে তিনি মামলাটি দায়ের করেন।
 
প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের স্ত্রী তিন সন্তানের জননী  স্বপ্নাকে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী, তারই ভায়রার মেয়ে এক সন্তানের জননী এইচএসসি পাশ লাবনীকে দ্বিতীয় শ্রেণির, মাসপিয়াকে ৩য় ও চতুর্থ শ্রেণির, রোজিনাকে ৫ম ও ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী এবং সোহাগ মিয়াকে ২য় ও ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র দেখিয়ে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাত করেন। এভাবে তিনি ৩০ জন ভুয়া শিক্ষার্থীর নামে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাত করেছেন।
 
শিক্ষা অফিসার জুয়েল আশরাফ জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভুয়া উপবৃত্তি স্থগিত করা হয়েছে।
 
অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব সেজে নিজেই নিজের স্বাক্ষরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রাপ্ত হন। প্রধান শিক্ষককে বিএ পাশ থাকতে হয়। নজরুল ইসলাম এইচএসসি পাশ। তিনি ২০০০ সালে মেলান্দহ সরকারি কলেজ থেকে বিএ পরিক্ষায় অকৃতকার্য হন। পরের বছর পরিক্ষায় নকলের দায়ে বহিষ্কার হন। দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স পাশের জাল সনদ দাখিল করেছেন।
 
অপরদিকে মলিকাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরাফ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্লিপ-প্রাকপ্রাথমিক প্রকল্প ও উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন অভিভাবক মুর্শেদুল। গত ২৮ সেপ্টেম্বর তদন্তে শরাফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। স্কুলের সভাপতি আলহাজ মাওলানা আব্দুর রউফ, এটিও আয়ুব আলী উপবৃত্তি এবং প্রকল্পের টাকা হেরফেরের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
 
ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার খোরশেদ আলম জানান, স্লিপ-প্রাকপ্রাথমিক প্রকল্পের অনিয়মের বিরুদ্ধে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সমন্বয়ে মনিটরিং চলছে। কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে।
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ