গার্মেন্টসের ৩ হাজার কোটি টাকার শিপমেন্ট বাতিল

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ২৩:৩৪
প্রাইমমুভার ও ট্রেইলর ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে বন্দরে কন্টেইনার জটের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বন্দরে ৪০ হাজার ২৫০টি কন্টেইনার জমেছে। অথচ বন্দরের ধারণ ক্ষমতা ৩৬ হাজার ৩৫৭। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) গোলাম ছরওয়ার জানিয়েছেন, বন্দরে কন্টেইনার রাখার কোনো জায়গা নেই। হ্যান্ডলিং কার্যক্রম স্লো হয়ে গেছে। এদিকে গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ধর্মঘটের কারণে ইতোমধ্যে তাদের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার শিপমেন্ট বাতিল হয়ে গেছে।
 
জানা গেছে, আন্দোলনকারী কন্টেইনার বহনকারী প্রাইমমুভার ও ট্রেইলর মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের বৈঠক ব্যর্থ হয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক শামসুল আরেফিনের সভাপতিত্বে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে চট্টগ্রাম জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল আলম সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আগামী ৪ অক্টোবর ঢাকায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে পরবর্তী সিদ্ধান্তের পূর্ব পর্যন্ত ৩৮ টন পর্যন্ত প্রাইমমুভার ও ট্রেইলর কোনো প্রকার জরিমানা ছাড়া চলাচল করতে পারবে। তবে এ সিদ্ধান্ত জানানোর পর আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। তারা জানান, আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত যে কোনো ওজনের প্রাইমমুভার ও ট্রেইলর জরিমানা ছাড়া চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। পরে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
 
এ সময় প্রাইমমুভার ট্রেইলর মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব আবু বকর সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান, তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। যে আশা নিয়ে বৈঠকে এসেছিলাম সরকার সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় মর্মাহত হয়েছি। বাধ্য হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
 
ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ধর্মঘট: এদিকে ওই বৈঠকে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। তারা সড়কপথে চাঁদাবাজি-হয়রানি বন্ধের দাবি জানান। তবে বৈঠকে এ ব্যাপারেও কোনো সুরাহা হয়নি। এ ব্যাপারে আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত ৭/৮ মাস ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করছি। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছে না। সর্বশেষ গতকালের বৈঠকও ব্যর্থ হয়েছে। তাই আগামীকাল শনিবার থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রামে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ধর্মঘট পালন করা হবে। বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, পুলিশসহ অন্য সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
 
শিপমেন্ট বাতিল: প্রাইমমুভার ও ট্রেইলর মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহূত ধর্মঘটের ৪র্থ দিনে বন্দরে রপ্তানি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে তাদের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার শিপমেন্ট বাতিল হয়ে গেছে। ২ হাজার ৭০০ গার্মেন্টসবাহী কন্টেইনার ফেলে জাহাজ বন্দর ছেড়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোসমূহে গতকাল পর্যন্ত ৬ হাজার ৫০০ কন্টেইনার আটকা পড়ে আছে। কারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে করে রপ্তানিমুখী পোশাক প্রথম বেসরকারি ডিপোতে আসে। পরবর্তীতে ডিপোতে গার্মেন্টস কার্টন কন্টেইনারে ভর্তি করার পর পণ্যবাহী ওই কন্টেইনার প্রাইমমুভার ও ট্রেইলর যোগে বন্দরে পৌঁছানো হয়। এরপর বন্দর থেকে কন্টেইনার জাহাজে লোডিং করা হয়। ধর্মঘটের কারণে বেসরকারি ডিপোসমূহ থেকে কন্টেইনার বন্দরে যেতে পারছে না। বন্দর সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত প্রায় ১০/১২টি জাহাজ আংশিক পণ্য বা খালি কন্টেইনার নিয়ে ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
 
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা বিভিন্ন কারখানার কাঁচামাল কারখানায় পৌঁছাতে না পারায় উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যান্য আমদানি পণ্য গন্তব্যে যেতে না পারায় আমদানিকারকগণ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
 
শিপার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এমডি রেজাউল করিম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই সংকট নিরসনে সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। না হলে জাতীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে।
 
 

ইত্তেফাক/এএন