ছোট্ট ফুটফুটে মেয়ে। নাম তার রাবেয়া। ২য় শ্রেণির ছাত্রী। দিনের প্রথম প্রহরে স্কুলে পড়াশুনা করে আর বিকালে পাঁপড় বিক্রি করে। বিক্রি করা পাঁপড়ের সমুদয় টাকা তুলে দেয় বাবা- মায়ের হাতে। এভাবে রিকশা চালক বাবার চার সদস্যের পরিবার চলছে।
সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের সামনে রাবেয়ার সাথে কথা হয়। সে জানায়, বাবা- মা অত্যন্ত গরিব। বাবা লুত্ফর রহমান পেশায় একজন রিকশা চালক। মা সাথী বেগম বাসাবাড়িতে কাজের পাশাপাশি নিজের সংসারের কাজ করেন। অভাবের সংসার। বড় বোন লতা সৈয়দপুর রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। বাবা-মায়ের রোজগারে সংসার চলে না। ফলে তাদের জামাকাপড় ও পড়াশুনার খরচ অভাবী পরিবার মেটাতে পারে না।
সাত বছরের রাবেয়া স্টেশনের পাশে ফ্রি আমিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ছাত্রী। স্কুলের সন্নিকটে শহরের রসুলপুরে একটি ক্যাম্পে তাদের বসবাস। অনেকটা নোংরা পরিবেশে বেড়ে ওঠা রাবেয়ার। পরিবারের দুঃখ দুর্দশায় বাধ্য হয়ে ফেরি করে পাঁপড় বিক্রি করছে। সকাল ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত স্কুলে লেখাপড়া করে। স্কুল থেকে বাসায় ফিরে বিকাল ৪টায় ভাজা পাঁপড় পলিথিনের বস্তায় ভরে কাঁধে ঝুলিয়ে বিক্রি করে রোজগার করছে।
প্রতিটি পাঁপড় বিক্রি হয় ৫ টাকায়। এজন্য রাবেয়াকে শহরের অলিগলি সর্বত্র বেড়াতে হয়। এভাবে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩শ টাকার পাঁপড় বিক্রি করে সে। হিসেব কষে পুরো টাকা বুঝে দেন বাবা-মায়ের হাতে। শহরের দোকানদার, ব্যবসায়ী, পথচারীরা তার পাঁপড়ের নিয়মিত খরিদ্দার। তবে রাবেয়া বাকিতে কোনো পাঁপড় বিক্রি করে না।
অভাবের মাঝেও দুই বোন লতা ও রাবেয়ার লেখাপড়ার অদম্য ইচ্ছে দেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক- শিক্ষিকারা প্রশংসা করেছেন। ভূপেন হাজারিকার গানের কথায় ‘মানুষ মানুষের জন্য একটু সহানুভূতি কি পেতে পারে না’।
ইত্তেফাক/এএন
