ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মহিষমারি গ্রামের কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থা। বিদ্যালয় বলতে ফাঁকা মাঠের মধ্যে একটি ঘর। ঘর বললে ভুল হবে। খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে একটি টিনের চালা। বেড়া বলতে যা আছে, সেটাও খসে পড়ছে। খসে পড়া বেড়ার ফাঁক দিয়ে দেখা যায়, শিশুদের মুখ। ঘরের খুঁটির সঙ্গে একটি দণ্ডে উড়ছে জাতীয় পতাকা। বিদ্যালয়ের চিহ্ন বলতে বেঞ্চে বসা কয়েকজন শিক্ষার্থী আর পতাকাটা।
মাঠের শেষ সীমানায় বাঁশঝাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ৩২ ফুট দৈর্ঘ্যের ওই বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ের সামনে নেই কোনো সাইনবোর্ড। ঘরের সামনের চাটাইয়ের বেড়া জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় টিকে থাকলেও পেছনের দিকে নেই কোনো বেড়া। ঘরটিতে তিনটি শ্রেণিকক্ষ বসানো হলেও মাঝখানে নেই কোনো বিভাজন। নেই কোনো ব্ল্যাকবোর্ড। বিদ্যালয়ে সাত জোড়া বেঞ্চ আছে। তাও নড়বড়ে।
অধিকাংশ শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষের মেঝে বা বাঁশেরঝাড়ে পলিথিনের মাদুর বিছিয়ে পড়ালেখা করছে। নেই শিক্ষকদের বসার চেয়ার-টেবিল। কাগজ ও খাতা সংরক্ষণের জন্য কোনো আলমারিও নেই। জরুরি কাগজপত্র প্রধান শিক্ষক তার বাড়িতে নিয়ে যান। বিদ্যালয়ে নেই কোনো শৌচাগার ও নলকূপ।
বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ছাড়া আর কোনো শিক্ষক নেই। প্রধান শিক্ষক একাই গোটা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামলাতে এ শ্রেণি ও শ্রেণি ছোটাছুটি করছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বলেন, ‘বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হলেও এখন পর্যন্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আসেনি। বিদ্যালয়টির ঘর সংস্কারে আমরা চেষ্টা করছি।’
কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ১৯৯১ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। গ্রামের খলিলুর রহমান বিদ্যালয়ের জন্য ৩৩ শতক জমি দান করেন। যে জমির ওপর গ্রামের কিছু মানুষের সহযোগিতায় চাটাই-টিনের তিন কক্ষের একটি ঘর করা হয়। ২০১৩ সালে রেজিস্টার্ড প্রাইমারি বিদ্যালয় জাতীয়করণের সময় বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হয়। এরপর বিদ্যালয়টির অবকাঠামোর কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে ছয়টি শ্রেণিতে ১২৮ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক আছেন চারজন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আফজাল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টি সবেমাত্র সরকারি করা হয়েছে। ভবন নির্মাণের জন্যও উচ্চপর্যায়ে লিখেছেন। আশা করছেন দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষকরাও তাদের বেতন পাবেন।
ইত্তেফাক/এএন
