নারীদের উন্নতি না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৯, ২২:১০

দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, তাই নারীদের উন্নয়ন সাধিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারী অগ্রগতির প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে নারী-পুরুষ একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মানব মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জেন্ডার বৈষম্য দূর করতে হবে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।

গতকাল আগারগাঁওস্থ পিকেএসএফ ভবনের মিলনায়তনে ‘সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো: নারী-পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০১৯ উপলক্ষে সেমিনারটি আয়োজন করা হয়। পিকেএসএফ-এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল করিম এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন পিকেএসএফ-এর পরিচালক প্রতিমা পাল মজুমদার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, নারীর প্রতি সামাজিক বৈষম্য, সংকীর্ণ মানসিকতা, সহিংসতা এখনো দূর হয়নি। বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, তাই নারীদের উন্নয়ন সাধিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকার নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ফলে, বাংলাদেশে জেন্ডার বৈষম্য ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে এবং সামগ্রিকভাবে নারীর অগ্রযাত্রা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতীয় স্বার্থে একটি নারীবান্ধব সমাজ গঠনে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

পিকেএসএফ-এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, একসময় অর্থনৈতিক উন্নতি নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হিসেবে বিবেচিত হতো, তবে সেই ধারণায় এখন পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে মানব মর্যাদা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজের জেন্ডার বৈষম্য দূর করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে, স্বাগত বক্তব্যে পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল করিম নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতি বেগবান করার লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন। সেমিনারে নারীর ক্ষমতায়ন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য পিকেএসএফ-এর সহযোগী সংস্থা শিশু নিলয় ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক নাছিমা বেগমকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া, ‘কর্ম, সেবা ও জন সম্পদে নারীর অভিগম্যতা নিশ্চিতের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সম্পৃক্তকরণের বিষয়টি ত্বরান্বিতকরণ: পিকেএসএফ এর অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিকেএসএফ এর মহাব্যবস্থাপক (কার্যক্রম) ড. একেএম নুরুজ্জামান।

সেমিনারে জানানো হয়, পিকেএসএফ দুই শতাধিক সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ১ কোটি ৩৪ লাখ সদস্য পিকেএসএফ-এর কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত, যার মধ্যে ১ কোটি ২৯ লাখই (৯৬%) নারী। পিকেএসএফ সারাদেশে প্রায় ১১শ’ কিশোরী ক্লাব গঠন করেছে। এছাড়া বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের মাধ্যমে হাওর ও চরাঞ্চলের অতিদরিদ্র নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, দলিত ও বেদে সম্প্রদায়ের নারী সদস্য এবং হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে নানাবিধ আর্থিক ও অ-আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে।