বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হচ্ছে

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৯, ২২:১৭

বিএসএমএমইউ’র সঙ্গে টাটা মেমোরিয়ালের চুক্তি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

রক্তরোগসহ ব্লাডক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সঙ্গে ভারতের মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। গতকাল রবিবার বিএসএমএমইউর বি ব্লকে ডা. মিল্টন হলে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান এবং টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের পরিচালক (একাডেমিকস) প্রফেসর এস. বানাভালি ও প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক সুমিত গুজরাল। বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ক্যান্সার রোগীদের চিকিত্সায় বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট অত্যন্ত জরুরি। এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার ফলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট চালু করা সম্ভব হবে। এতে দেশের ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীরা বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিত্সা সাশ্রয়ীমূল্যে পাবেন এবং অনেক রোগী অকালে মৃত্যুবরণ করা থেকে রক্ষা পাবে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন হেমাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সালাহউদ্দীন শাহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুর রহমান, ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. গাজী শামীম হাসান, শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. চৌধুরী ইয়াকুব জামাল, প্রক্টর অধ্যাপক সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ, নবনিযুক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক প্রমুখ।

দেশে ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী ৮৮ লাখ মানুষ ক্যান্সারে মারা যান। এর মধ্যে ৪ থেকে ৫ শতাংশ হলো রক্তরোগের ক্যান্সার যেমন লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা, মাল্টিপল মায়েলোমা ইত্যাদি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে গত ২০১২ সালের তুলনায় আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে রক্তরোগের ক্যান্সার ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ হাজার ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী পূর্ণাঙ্গ চিকিত্সার অভাবে অকালে মৃত্যুবরণ করছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ভারতের মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার ফলে অটোলোগাস ও অ্যালোজেনিক পদ্ধতিসহ বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট (বিএমটি) পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে। বিএমটি-এর অটোলোগাস চিকিত্সায় দেশের বাইরে প্রায় ২০ লাখ টাকা এবং অ্যালোজেনিক চিকিত্সায় ৫০ লাখ থেকে কোটি টাকা ব্যয় হয়। এই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ৩ মাস পর নিয়মিতভাবে অটোলোগাস ও ৬ মাস পর অ্যালোজেনিক পদ্ধতির বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট চালু করা হবে। এখানে চিকিত্সা ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হবে। পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়মিত বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট চালু হলে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।