ঢাকায় ৬৪২টি পূজা মণ্ডপ, প্রতিমা তৈরিতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৯:১৯
দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরাণীগঞ্জ, সাভার এবং ধামরাই উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা জেলা। এ জেলাতে এবার ৬৪২টি মণ্ডপে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচাইতে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। ইতোমধ্যে শুক্রবার  শুভ মহালয়ের মধ্য দিয়ে মা দুর্গা তার আরাধনা শুরু করেছে। মা দুর্গা এবার অশুর দমনের শুভ শক্তি নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করবেন। তাকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্ততি চলছে ঢাকা জেলার দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরাণীগঞ্জ, সাভার এবং ধামরাইয়ে মৃৎশিল্পীদের মধ্যে। ইতোমধ্যে তারা মাটির কাজ শেষ করে এবার রং-তুলিল খেলায় মেতে উঠেছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে এবছর মা দুর্গা ঘোটকে করে শান্তির বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করবেন। 
 
জেলা প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানান, আগামী ৬ অক্টোবর পঞ্চমী পূজার মধ্যে দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন শুরু হতে যাচ্ছে। ১১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে উৎসব সম্পন্ন হবে। এ বছর ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় ৩৬টি, নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৭০টি, কেরাণীগঞ্জ উপজেলায় ১৩৪টি, সাভার উপজেলায় ১১০টি এবং ধামরাল উপজেলায় ১৯২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। 
 
এলাকা ঘুরে জানা গেছে, পূজা উপলক্ষে সব বয়সের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ঘরে ঘরে আনন্দ জোয়ার বইতে শুরু করেছে। শান্তির দেবী মা দুর্গাকে বরণ করে নিতে কেউ কেউ মার্কেটে যাচ্ছে পূজার নতুন কাপড় কিনতে। বাজারে এক প্রকারের ধুম পড়েছে। পিঠা, খই, মুয়া, মুরি, নারু  তৈরির জন্য নারিকেলসহ নানা উপকরণ কিনতে শুরু করেছে। কেউ বা আবার অতিথি আপ্যায়নে ঘরে ঘরে চলছে সাজসজ্জা পরিপার্টির কাজ। কাশফুল ফোটা শরতের শেষদিকে উৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে এ জেলার সব মন্দিরে মন্দিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। চলছে প্রতিমায় রং-তুলির আঁচড়। তাই প্রতিমা তৈরি ও রং-তুলিতে ব্যস্তসময় পার করছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ও স্থানীয় প্রতিমা শিল্পীরা।
 
দোহার উপজেলার মেঘুলা গ্রামের প্রতিমা শিল্পী অনিল পাল জানান, এবার তিনি দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৮টি প্রতিমা শিল্পের কাজ করছেন। কাজ সম্পন্ন করতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাই সহযোগীদের নিয়ে রং-তুলির কর্মে খুব ব্যস্ত। তিনি আরো বলেন, এ পেশায় সারা বছর কাজ হয় না। দুর্গাপূজার সময়েই প্রতিমার কাজ বেশি হয়। এসময়ের আয়ের টাকায় সারা বছর সংসার চালাতে হয়।
 
অপরদিকে কেরাণীগঞ্জের  বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে প্রতিমা তৈরির কাজ। বাকি রয়েছে প্রতিমাকে রং ও কাপড় পড়ানোর কাজ। উপজেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার নাজিরেরবাগ এলাকায় একটি পূজা মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরি করে তাতে সাদা রং দেয়া হয়েছে। এরপর রং তুলির আঁচড়ে প্রতিমাকে তার নিজ রুপ দেয়ার কাজ করা হবে। এরপর কাপড় পড়িয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হবে।
 
এব্যাপারে প্রতিমা তৈরির কারিগর টেপু পাল বলেন, প্রতিমা তৈরির পর তাতে আস্তর (সাদা রং) দিয়ে ভালোভাবে শুকানোর সময় দিতে হবে। নতুবা প্রতিমার গায়ে ফাটল ধরে যাবে। এতে প্রতিমার সৌন্দর্য নষ্ট হবে। তিনি আরও বলেন, এবছর খড় ও সুতলিসহ প্রতিমা তৈরির সরঞ্জামের দাম বেশী। তাই লাভ কম হবে। নাজিরেরবাগ পূজা উদযাপন কমিটির কোষাধ্যক্ষ রত্ন সরকার মাম্পি বলেন, এবছর প্রতিমা তৈরির খরচ বেশী। আমাদের মণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৩২ হাজার টাকা।
 
দোহার উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ পাল অপু জানান, দোহারের মুকসেদপুর এবং নয়াবাড়ির ইউনিয়নের কিছু কিছু মণ্ডপে ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে তবে তার নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসন নিয়েছে।
 
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখর চন্দ্র দাস বলেন,  কেরাণীগঞ্জ উপজেলায় এ বছর ১৩৪টি মণ্ডপে দূর্গাপূজা উদযাপিত হবে। যার মধ্যে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় ৫৩টি এবং কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় ৮১টি।
 
নবাবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার সরকার জানান, আনন্দ মুখর পরিবেশে মা দুর্গাকে বরণ করার সব প্রস্তুতি হাতে নেয়া হয়েছে। কোন ধরণের ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসনের সহায়তা নেয়া হবে।
 
কেরাণীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে নেওয়া হবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিটি মণ্ডপে সার্বক্ষণিক পুরুষ ও মহিলা আনসার সদস্য নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব ভলান্টিয়ার থাকবে।
 
এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তফা কামাল জানান, মণ্ডপের নিরাপত্তায় মন্দির কমিটির সদস্য ছাড়াও পুলিশ প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজর রাখা হবে। 
 
দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের সব ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।
 
এ ব্যাপারে  ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান ইত্তেফাককে জানান, ঢাকা জেলার সব কয়টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের বিশেষ নজরদারি থাকবে।