চিনিকলের জমি দখলকারীদের উচ্ছেদের দাবিতে রেলপথ অবরোধ

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৬, ১২:৫০
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জস্থ রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমির ‘জবরদখলকারীদের’ উচ্ছেদ ও জমি উদ্ধারের দাবিতে মহিমাগঞ্জ রেল স্টেশনে রেলপথ অবরোধ করা হয়েছে।
 
শনিবার সকালে নয়টায় রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন, আখচাষি সমিতি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যৌথভাবে এ কর্মসূচি পালন করছে।
 
অবরোধে লালমনিরহাটগামী পদ্মরাগ ও ঢাকাগামী লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনসহ লালমনিরহাট এবং দিনাজপুর থেকে সান্তাহার ও ঢাকা রেল রুটে সকল প্রকার ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
 
গাইবান্ধা রেল স্টেশন মাস্টার আবুল কাসেম জানান, বোনারপাড়া রেলওয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ওই রেলপথ থেকে অবরোধকারী সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
 
এদিকে অবরোধস্থলে রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে এক সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম প্রধান, আখচাষি সমিতির সভাপতি জিন্নাত আলী প্রধান, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
 
বক্তাদের দাবি, সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের বেশ কিছু জমি তাদের বাপ-দাদার। এগুলো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাওতাল ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তি দখলকরে বাড়িঘর নির্মাণ করেছে। এতে করে গত এক সেপ্টেম্বর থেকে আখ রোপণ মৌসুম শুরু হলেও রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত রোপণ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। বারবার আশ্বাস দিয়েও প্রশাসন সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি উদ্ধারে কোনো রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করে নাই।
 
কিন্তু সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার জমি উদ্ধার কমিটির সহ-সভাপতি সিলিমিন বাক্সে বলেন, কিছুদিন ধরে ওই সব জমিতে ধান ও তামাক চাষ হচ্ছে। অথচ জমি ফেরত দেয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে আন্দোলন করেও কাজ হয়নি। তাই তারা দখল করেছে।
 
চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আউয়াল বলেন, ‘অভিযোগটি ভিত্তিহীন। অধিগ্রহণের সময় চুক্তিনামায় বলা হয়, কখনো চিনিকল বা খামার বন্ধ হলে সে ক্ষেত্রে ওই সব জমি সরকারের কাছে চলে যাবে।’
 
উল্লেখ্য, ১৯৫৫ সালে চিনিকল কর্তৃপক্ষ আখ চাষের জন্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মাদারপুর, রামপুরা, সাপমারা, ফকিরগঞ্জ ও সাহেবগঞ্জ এলাকায় এক হাজার ৮৪০ একর জমি অধিগ্রহণ করে। তখন থেকে এসব জমিতে উৎপাদিত আখ চিনিকলে সরবরাহ করা হচ্ছিল। গত ১ জুলাই প্রায় ১০০ একর জমি দখল করার উদ্দেশ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি একচালা ঘর নির্মাণ করেন।
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ