পতনের ধারায় শেয়ার বাজার

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৯, ২২:৩৫

ধারাবাহিকভাবে শেয়ারবাজারে পতন হচ্ছে। একদিন শেয়ারবাজার ভালো গেলে পরপর কয়েকদিন তা খারাপ হচ্ছে। হচ্ছে বড় দরপতনও। গত প্রায় তিনমাস ধরে দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। টানা দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারী বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অবস্থা শোচনীয়। প্রতিনিয়ত লোকসান গুনছেন তারা। আর লোকসানে পড়ে আবারো আস্থা হারাচ্ছেন এসব বিনিয়োগকারী।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকা সংকট দিন দিন বাড়ছে। ফলে ব্যাংকের আমানতের সুদের হার বাড়ছে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদেরও সংকট বাড়ছে। তারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াচ্ছেন না। এছাড়াও শেয়ারবাজার ভালো না হওয়ার পেছনে আস্থাহীনতা কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর উদ্যোগ না থাকা। এসব কারণে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাও দিন দিন বাজার থেকে সরে যাচ্ছে। এতে বাজারের অবস্থা আরো খারাপ হচ্ছে।

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, বাজার নিয়ে কারসাজি চক্র আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যে কারণে, ভালো শেয়ারগুলোর দামও এখন নিম্নমুখী। গত কিছুদিনে খুব কম শেয়ারই আছে যেগুলোর দাম কমেনি। অতীতেও এ কারসাজি চক্রের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিতে পড়েছেন। তারপরও নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং শেয়ারবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, বাজারের গুণগত মান পরিবর্তন হয়নি। গত কয়েক বছরে নতুন শেয়ারও বাজারে আসেনি। এমন অবস্থায় মানুষ কেন বেশি দাম দিয়ে শেয়ার কিনবে? ফলে দাম আবার আগের জায়গায় চলে যাচ্ছে। স্পন্সররা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে। প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রিও কেন এসইসি অনুমোদন করছে সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আবু আহমেদ বলেন, স্পন্সররা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই প্রতারণা করছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাসের জায়গা কমে যাচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগের সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল রবিবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এর মাধ্যম তিন মাস পর বা ৫৯ কার্যদিবসের মধ্যে বাজারটিতে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে।

গতকাল ডিএসইতে সব খাত মিলে ৯৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ে। বিপরীতে দাম কমেছে ২০৬টির। আর অপরিবর্তিত ছিল ৪৩টির দাম। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৫৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫১২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। অপর দুটি মূল্যসূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২০ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৯৭২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৮১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৫৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার শেয়ার। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩৯০ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার। সে হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৩৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর বা ৫৮ কার্যদিবস পর বাজারটিতে সর্বনিম্ন লেনদেন হলো। গত ২৩ ডিসেম্বর ডিএসই-তে লেনদেন হয়েছিল ৩৫৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএসসিএক্স ১৩৪ পয়েন্ট কমে ১০ হাজার ২৩৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১০ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার। লেনদেন হওয়া ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মধ্যে দাম বেড়েছে ৬১টি শেয়ারের। বিপরীতে কমেছে ১৫০টির, আর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৫টির।