উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়নের রুহুল্লার ডেবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনা নিয়ে আহত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করে উক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় অভিভাবকদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগে জানা গেছে, রুহুল্লার ডেবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জ্যোতি বড়ুয়া ইতিপূর্বেও শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। শনিবার বিকাল ৩ টার দিকে প্রধান শিক্ষক হঠাৎ পঞ্চম শ্রেণিতে ঢুকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে থাকে। এ সময় শিক্ষার্থীরা উত্তর দিতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রধান শিক্ষক কস্টেপ দিয়ে মোড়ানো বেত দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করতে থাকে। শিক্ষার্থীদের চিৎকার শুনে পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজন ছুটে এলে প্রধান শিক্ষক শ্রেণীকক্ষ ত্যাগ করে।
এ সময় আহত শিক্ষার্থীরা হচ্ছেন- সদিয়া, পারভিন, সাবেকুন নাহার, মাহিয়া জিয়াবুল হক, কোহিনুর, কামরু, তৈয়বা, আবু তাহের, রোজিনা, রিফাত, রুবেল, রাশেদ, মাইনুম, সাকিল, জিয়াউর রহমান, রিজিয়া, মিজান, সাকিলা, মোমেনা, সাফিয়া, নেজাম, মমতাজ মিয়া, জাকিয়া, আব্দুল জব্বর ও ইমতিয়াজ জাহান।
আহত পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মাইমুনা আকতারের পিতা আবুল কাশেম জানান, উক্ত শিক্ষিকা ইতিপূর্বেও তার মেয়েকে বেশ কয়েকবার পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। আরেক আহত পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মাহিয়া হকের পিতা মুজিবুল হক ভুট্টো জানান, উক্ত প্রধান শিক্ষক এক হাতে পায়ের সেন্ডেল আরেক হাতে বেত নিয়ে রুদ্ধদ্বার কক্ষে শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে আহত করেছে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জ্যোতি বড়ুয়ার সাথে মুঠোফোনে আলাপ করা হলে পাঠদানে ব্যর্থ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পেটানো হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে রক্তাক্ত জখমের কথা অস্বীকার করেন তিনি।
এ ব্যাপারে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা রবিবার সকাল ১০ টার দিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট ডাক্তারি চিকিৎসা সনদপত্রসহ একটি অভিযোগ করেছে।
শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম ভূঁইয়া জানান, বিষয়টি তদন্ত করে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উখিয়া প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এস এম কামাল উদ্দিন উক্ত শিক্ষিকাকে যতদ্রুত সম্ভব অন্যত্রে বদলী করার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ইত্তেফাক/আরএ
