ভোলার মনপুরার মেঘনা থেকে জলদস্যু মোল্লা বাহিনী কর্তৃক অপহৃত রহমান মাঝি, ইউনুছ মাঝি, নুরামিন মাঝি, ইউসুফ মাঝি ও রুহুল আমিন মাঝিকে মুক্তিপণের ২ লক্ষ ২৮ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে জলদস্যুরা।
জলদস্যুরা ৫ মাঝিকে ১লা অক্টোবর সকাল ৬টায় মনপুরার মিয়াজমিরশাহ সংলগ্ন চর থেকে মাছ ধরা অবস্থায় অপহরণ করে উড়ির চরে নিয়ে যায়। পরে অপহৃত মাঝিদের থেকে মুক্তিপণ আদায় করে শনিবার রাত ১০টায় বদনার চরে রেখে যায়। অপহরণের ১৭ ঘণ্টা পর অপহৃত মাঝি উদ্ধার হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
উদ্ধার হওয়া জেলে রহমান মাঝি জানান, ইলিশ ধরা অবস্থায় হাতিয়ার জলদস্যু মোল্লা বাহিনীর রুবেল ও বাবুলের নের্তৃত্বে জেলেদের ওপর হামলা চালিয়ে ৫টি ট্রলার থেকে ৫ মাঝিকে ধরে নিয়ে যায়। উড়ির চরে নামক স্থানে জিম্মি করে মারধর করে। মুক্তিপণের টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তাদেরকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তারা বর্তমানে মনপুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা রয়েছেন। ২ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে জলদস্যুদের দেওয়া হলে ৩জন মাঝিকে ছেড়ে দেয়। পরে জংলার খাল থেকে একটি ট্রলার গিয়ে বদনার চর থেকে আমাদের নিয়ে আসে।
অপহৃত জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন আমাদের কোন সহযোগিতা করছেন না। আমরা জলদস্যুদের বিষয় জানালে তারা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। হাতিয়া জোনের কোস্টগার্ড মোটেও সহযোগিতা করছে না। তাদের নাকের ডগায় প্রায় প্রতিদিন জলদস্যুরা জেলেদের ওপর হামলা চালায়। জেলেদের আটক করে মুক্তিপণ আদায় করে। জলদস্যুদের গুলিতে জেলেরা প্রাণ হারায়। এখন জলদস্যুদের ভয়ে জেলেরা মেঘনায় মাছ ধরতে সাহস পাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে হাতিয়া জোনের কোস্টগার্ড প্রধান লে. কমান্ডার ওমর ফারুক এ প্রতিবেদককে জানান, আমারা ঘটনা শোনার পর অপহৃত মাঝিদের উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনা করি। আমাদের উদ্ধার অভিযানের কথা জলদস্যুরা জানতে পেরে এই এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় আত্মগোপন করে। তবে মেঘনায় জলদস্যুদের আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
