কুয়েটে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৬, ১৭:০১
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের ১০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত কুয়েট ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক মুন্সী আমিরুজ্জামানকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 
 
রবিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় ১২টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে এখনো থমথমে  অবস্থা বিরাজ করছে। এদিকে, উক্ত ঘটনার জন্য কুয়েট ছাত্রলীগের একাংশ ছাত্রলীগ সভাপতি শাফায়াত হোসেন নয়নকে দায়ী করে আজ সোমবার খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
 
সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, ছাত্রলীগের নবঘোষিত বঙ্গবন্ধু হল কমিটি ও ডাইনিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধের জের ধরে গত রবিবার রাত ১০টার দিকে পদবঞ্চিতদের সঙ্গে কুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি শাফায়াত হোসেন নয়ন গ্রুপের তর্ক-বিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে নয়ন গ্রুপের হামলায় বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম ফিরোজ ইসলাম, সহ সম্পাদক মুন্সী আমিরুজ্জামান, নূর এ জিমি রাজ, আশরাফুলসহ অন্তত ১০জন আহত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
 
এদিকে, আজ সোমবার দুপুরে স্থানীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কুয়েটের বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম ফিরোজ ইসলাম অভিযোগ করেন, গত রবিবার রাত ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগ নেতা কমল, রাজ, আশরাফুল, মাহবুব ও ইকবাল হল থেকে বের হওয়ার সময় কুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি নয়নের নির্দেশে তার অনুসারী নবগঠিত হল কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের বেশ কয়েকজন কর্মী লোহার রড ও পাইপ নিয়ে তাদের মারধর শুরু করে। এ সময় হল কমিটির সহ-সভাপতি রিয়ান ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ ইসলাম রাজুসহ দ্বিতীয় ও প্রথম বর্ষের ৮-১০জন নেতাকর্মী ঠেকাতে গেলে তারাও হামলার শিকার হন। নয়নের সমর্থকরা পরে বঙ্গবন্ধু হলের ২০৪ ও ৪০২ (পশ্চিম) নম্বর কক্ষের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাংচুর করে ও চারটি ল্যাপটপ নিয়ে যায়।
 
তিনি বলেন, ছাত্রলীগ সভাপতি নয়ন একজন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী। ইতিপূর্বে তিনি নগরীর ময়লাপোতা মোড়ে গাঁজাসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। এছাড়াও তিনি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দোকানে বাকি খেয়ে টাকা পরিশোধ করেন না। এর প্রতিবাদ করলে তিনি ক্যাম্পাস থেকে একটি দোকান তুলে দেন। সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু হলের ডাইনিং ম্যানেজারের কাছে চাঁদা দাবিরও অভিযোগ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নূর এ জিমি রাজ, কে এম ইকবাল, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, কেএম নাবিউল হক রাকিন, আশরাফুল আলম প্রমুখ।
 
এ ব্যাপারে কুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি শাফায়াত হোসেন নয়ন বলেন, যারা অপকর্মে লিপ্ত থাকে তারা ছাত্রলীগ করতে পারেন না। রবিবার রাতের ঘটনার সঙ্গেও তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাছাড়া সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
 
কুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. আব্দুস সোবহান বলেন, গত রবিবারে রাতের সংঘর্ষের ঘটনায় ৬জন ছাত্র আহত হয়। এ ঘটনায় বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। পরে বিশ্ববিদ্যলয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
 
তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা তাদের নিরাপত্তা প্রদান ও ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। উক্ত ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও অবহিত করা হয়েছে। 
 
খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, কুয়েটের সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় কোন মামলা হয়নি। কাউকে গ্রেফতারও করা হয়নি। এ ঘটনায় বহিরাগতরা যাতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য প্রধান ফটকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি কুয়েট কর্তৃপক্ষ দেখছেন বলেও জানান তিনি। 
 
 
ইত্তেফাক/এমআই