ভেজাল জ্বালানি তেল বিক্রয় ও মজুদ রাখার অপরাধে সিলাগালা করে দেওয়া পেট্রোল পাম্প অবৈধভাবে খুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নওগাঁর মান্দা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে।
পেট্রোল পাম্পটির মূল মালিক ওয়াজেদ আলী মোল্লা সোমবার নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে ওয়াজেদ আলী মোল্লা বলেন, রাজশাহী-নওগাঁ সড়কের পাশে উপজেলার চৌদ্দমাইল এলাকায় অবস্থিত মেসার্স জয় ফিলিং স্টেশনটির সত্ত্বাধিকারী তিনি। ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর ফিলিং স্টেশনটি তিনি রাজশাহীর নওহাটা এলাকার বাসিন্দা এনামুলের কাছে শর্ত সাপেক্ষে সাত বছরের জন্য ভাড়া দেন।
বেশ কয়েকটি শর্তের মধ্যে একটি শর্ত ছিল, ‘সমস্ত জ্বালানি তেল মেসার্স জয় ফিলিং স্টেশনের লাইসেন্স পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডিপো থেকে উত্তোলন করতে হবে।’ কিন্তু সেই শর্ত ভঙ্গ করে এনামুল তাঁর পাম্পে অধিক লাভের আশায় বাইরে থেকে ভেজাল তেল আমদানি করে বিক্রি করিতেছিল।
বিষয়টি গোপন সূত্রে জানার পর এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত ২ মার্চ মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তিনি লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ মার্চ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজিবুল আলম ওই পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ভেজাল তেল বিক্রয় ও মজুদ রাখার অপরাধে ভাড়াটিয়া এনামুল হক ও পাম্পটির মূল মালিক ওয়াজেদ আলী মোল্লাকে ২৫ হাজার করে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আদালতের নির্দেশে পরীক্ষার জন্য ওই পাম্প থেকে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের নমুনা বিএসটিআই ল্যাবে পাঠানো হয়। বিএসটিআইয়ের প্রতিবেদনে ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় গত ২৭ সেপ্টম্বর পেট্রোল পাম্পটি সিলগালা করে দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিচালিত ভ্রাম্যামাণ আদালত। কিন্তু হঠাক করে গত রবিবার পাম্পটি পুন:রায় খুলে দেওয়া হয়।
ওয়াজেদ আলী অভিযোগ করেন, আমাকে, বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে অর্থের বিনিময়ে ইউএনও অবৈধভাবে পাম্পটি খুলে দিয়েছেন। পাম্পটি খুলে দেওয়ার কোনো এখতিয়ার ইউএনও রাখেন না। বিধি মোতাবেক আদালতে আবেদন করে দোষ স্বীকার করে মুচলেকা দিয়ে সিলগালা খুলে নেওয়া যাবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউএনও সাইফুর রহমান বলেন, পাম্পটি অস্থায়ীভাবে সিলগালা করা হয়েছিল। স্থায়ীভাবে বন্ধের জন্য পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষের কাছে কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পাম্পটি অস্থায়ীভাবে সিলগালা করা হয়েছে। এখন সেটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দ্বায়িত্ব পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষের।’
অর্থের বিনিময়ে পাম্প খুলে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন থেকে পাম্পটি খুলে দেওয়ার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হইনি। পাম্পটি খোলা না বন্ধ থাকবে সেটি দেখার দায়িত্ব পদ্মা অয়েল কোম্পানির, প্রশাসনের নয়।’
ইত্তেফাক/এমআই
