ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইনস্টিটিউট হিসেবে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে ঘোষণার দাবিতে নীলক্ষেত অবরোধ করে রেখেছে কলেজটির সাধারণ ছাত্রীরা। এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের প্রিন্সিপাল শামুসন নাহারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করার পরও কোন ফলাফল না পাওয়ায় এই আন্দোলন শুরু করেছে তারা।
কলেজটির বস্ত্র পরিষদ ও বয়ন শিল্প বিভাগের শিক্ষার্থী মারজান চৌধুরী বলেন, আমাদের একটাই লক্ষ্য। আর তা হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইনিস্টিটিউট হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন। কিন্তু তা অর্জনের জন্য আমাদের কো-এডুকেশন বা নারী-পুরুষ একত্রে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। সেটি নিয়েই আমরা আন্দোলন শুরু করি।
এদিকে আন্দোলনরত একই বিভাগের অপর এক শিক্ষার্থী সাবিরন সুলতানা সুমি নূর বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই। আমাদের কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনিস্টিটিউট হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই ঘোষণা না আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা সারারাত এখানেই অবস্থান করব।
IMG0
এ সময় তিনি আরো জানান, দাবি মেনে না নিলে আগামীকাল আমাদের পূর্ব নির্ধারিত পরীক্ষা বর্জন করা হবে। সকল সাধারণ শিক্ষার্থী পরীক্ষা বর্জন করবে বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের মত কো-এডুকেশন বা সহশিক্ষা এখানেও চালু হক। কিন্তু সেটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের কাছে এখন সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই কলেজকে যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইনিস্টিটিউট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
কেন এই আন্দোলন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন,এতদিন ধরে হোম ইকোনমিকস নিয়ে কোনো কথা বলা হতোনা। কিন্তু এখন আলোচনায় এসেছে।আমাদের যখন ভর্তি করা হয় তখন বলা হয়েছিলো আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট হিসেবে ভর্তি হবো। কিন্তু পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস কিংবা আইডি কার্ড কোনোরকম সুবিধা্ই দেয়া হয়নি। অথচ আমাদের এতটুক পাওয়ার কথা ছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হোম ইকোনমিকসের প্রসপেক্টাস একই দাবি করে তিনি বলেন, `এটা দেখলে যে কেউ বিশ্বাস করবে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছি। অভিযোগ তুললে এবারের প্রসপেক্টাসে সবুজ কালি দিয়ে কিছু পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু এতে করে আমাদের সমস্যার সমাধান তো হয়নি।'
এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, `বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায় ইনস্টিটিউট হওয়ার মূল শর্ত হচ্ছে কো-এডুকেশন। আমরা তখন এই প্রস্তাব মেনে নিই।'
তিনি আরো বলেন, `কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানালে অধ্যক্ষ তাদের আশ্বাস দিয়ে কো-এডুকেশনের ব্যাপারে সম্মতি জানায়। কিন্তু পরে তিনি দাবি করেন যে তাকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানো হয়েছে। কিন্তু কথাটি সত্য নয়।'
ওই ছাত্রী বলেন, `আমাদের জানায়, কো-এডুকেশনে আমাদের কোনো সমস্যা নেই ইনস্টিটিউট হওয়ার পূর্ব শর্ত হিসেবে েআমরা এটা মেনে নিয়েছি। আমাদের বিভাগের পাঁচটি বিষয় চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ও রিলেশনশিপ, ফুড এন্ড নিউটি্রশন, বস্ত্র ও বয়নশিল্ড, রিসোর্চ ম্যানেজমেন্ট এন্ড এন্ট্রাপ্রেনার শিপ এবং আর্ট এন্ড ক্রিয়েটিভ স্টাডিস এই বিষয়গুলো ছেলে-মেয়ে সবাই পড়তে পারে।'
IMG1
ছেলেরা ভর্তি হলে গার্হস্থ্য অর্থনীতি নিয়ে মানুষের ভুল ধারণা ভাঙবে জানিয়ে তিনি বলেন, `আমাদের সময় প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলো। তাদের জীবনের কি হবে? আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘ ইউনিটে চান্স পাই। কিন্তু যেহেতু গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ হিসেবেই আমরা জানতাম। তাই আমরা সেখানে ভর্তি হই।'
সবকিছু মিলিয়েই মূলত এই আন্দোলনে তারা নেমেছেন বলে জানান তিনি। এদিকে নীলক্ষেত মোড়ের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক লক্ষ্য, এক দাবি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থীরা।
ইত্তেফাক/আরএ/এমএইচ
