প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমান কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা এসে দাঁড়িয়েছে ১০৮.৮ এম,এস,এল (মিনস সি লেবেল)। ফলে কাপ্তাই পানি বিদ্যুত্ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বাঁধ রক্ষার্থে এবং রাঙ্গামাটির নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবাহ কমাতে স্প্রিলিওয়ের ১৬টি গেট ১ ফুট উচ্চতায় খুলে দিয়ে ১৮ হাজার কিউসেক পানি ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।
এদিকে হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে লেকের পার্শ্ববর্তী অনেক বসতবাড়ী ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে। রাঙ্গামাটি শহরের পৌর কলোনী, ঝুলিক্কা পাহাড়, জালিয়া পাড়া, আসামবস্তী, পুরাতনবস্তী, গর্জনতলী, রাজবাড়ী এলাকাসহ বেশী কিছু নিচু এলাকার বাড়ী ঘরে পানি উঠে গেছে।
হ্রদের পানি বৃদ্ধির ফলে রাঙ্গামাটির পর্যটন কর্পোরেশনের ঝুলন্ত ব্রিজ এখন ৪ ফুট পানির নিচে ডুবে আছে। পানি নিচে ডুবে থাকার কারণে পর্যটনে ঘুরতে আসা পর্যটকরা হতাশা হয়ে ফিরে যাচ্ছে।
কাপ্তাই পিডিবি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. আবদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিদ্যুত্ উত্পাদনের স্বার্থে হ্রদের পানিকে যথা সম্ভব কাজে লাগানো হচ্ছে। হ্রদের পানি বেশী বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের ধারণ ক্ষমতার উপরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তাই ৩ অক্টোবর সকাল নয়টা থেকে ৬ ইঞ্চি খুলে দিয়েছে এবং সকাল ৭ টা থেকে ১ ফুট উচ্চতায় খুলে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ১৮ হাজার কিউসেক পানি ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এছাড়াও কাপ্তাই হ্রদের পাওয়ার হাউজে ৫টি ইউনিটে দিয়ে ২২০ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ৫ টি ইউনিট দিয়ে ৩০ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে। কাপ্তাই হ্রদের পানির অবস্থা বুঝে হয়তো সপ্রীলওয়ের আরো বেশী খুলে দেয়া সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে কাপ্তাই পানিবিদ্যুত্ কেন্দ্র সূত্র জানিয়েছে, কাপ্তাই বাঁধের মাধ্যমে কাপ্তাই লেকে পানির সর্বোচ্চ পানির ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। গতকাল কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা থাকার কথা ছিলো ১০৬.৪ এমএসএল কিন্তু হ্রদের পানি রয়েছে ১০৮.৮৭ এমএসএল উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৮৩ এমএসএল বেশী রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে কাপ্তাই বিদ্যুত্ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, পাহাড়ি ঢল এবং বর্ষণ অব্যাহত থাকায় কাপ্তাই লেকে পানির উচ্চতা বিপদসীমা যেকোন মুহূর্তে অতিক্রম করতে পারে। এ ছাড়া কাপ্তাই লেকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লেকের উপরিভাগ রাঙ্গামাটি জেলার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। লেকের পানির উচ্চতার কারণে আরও নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইত্তেফাক/এএম।
