সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীর প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক মহিউদ্দিন আহমেদসহ চারজন। তবে মামলার দুই আসামিকে দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান গতকাল রবিবার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা করে জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টির পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হলো।
খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, হিযবুত তাহরীর মহিউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সমন্বয়ক কাজী মোরশেদুল হক ওরফে প্লাবন, সদস্য তানভীর আহম্মেদ ও আবু ইউসুফ আলী। দণ্ড দেওয়া হয় তৌহিদুল আলম ও সাইদুর রহমানকে।
২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল ঢাকার উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরে তাকওয়া মসজিদের সামনে রাষ্ট্রবিরোধী পোস্টার ও লিফলেট বিলির সময় তিনজনকে পেট্রোল বোমাসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী মহিউদ্দিনের নির্দেশেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয় মামলায়। ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মামলার বিচার। কিন্তু সাক্ষী গরহাজিরার কারণে বিচার বিলম্বিত হয়। অভিযোগপত্রের ১৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। পরে যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়। কয়েকবার তারিখ পেছানোর পর গতকাল এ রায় দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন দুজন। তাদের একজন সাক্ষ্য দিলেও অন্যজন দেননি। এ কারণে হয়ত হিযবুত তাহরীরের প্রধান সমন্বয়ক খালাস পেয়ে গেছেন। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর আপিলের সিদ্ধান্ত নেব।
