কার্যাদেশ পাওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পর কাজ শুরু করে মাত্র ২০ দিন কাজ করে দুই কোটি ৩০ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করে ময়মনসিংহ-টোক সড়কের সংস্কার কাজ তিন মাস ধরে বন্ধ রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এতে দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলার একাংশের প্রায় ১২ লাখ মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহ-টোক সড়কটি সংস্কারের জন্য গত বছরের ১ অক্টোবর দরপত্র আহবান করে ময়মনসিংহ সওজ অফিস। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ৭২ কি.মি দীর্ঘ ময়মনসিংহ-টোক সড়কের ২১ কি.মি এবং এ সড়কের শাঁখচূড়া-দক্ষিণ হারিনা লিংক রোডের ২.৬ কি.মিসহ সর্বমোট ২৩.৬ কি.মি সড়ক সংস্কারের জন্য ময়মনসিংহের সওজ অফিস মেসার্স শামীম এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেয়। কাজ সমাপ্তের মেয়াদ ছিল এক বছর। সড়কটি সংস্কারের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ছয় কোটি ৪৪ লাখ। ৪৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত দরে ছয় কোটি ৮৯ লাখ টাকায় কাজটি করে দেয়ার জন্য মেসার্স শামীম এন্টারপ্রাইজ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি অনুযায়ী কার্যাদেশ পাওয়ার দুই/তিনদিনের মধ্যে কাজ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু প্রায় পাঁচ মাস পর কাজ শুরু করে। এরপর তড়িঘড়ি করে মাত্র ২০ দিনে সড়কের গফরগাঁও উপজেলার লামকাইন এলাকায় পাঁচ কি.মি ও ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া বাজার এলাকায় ১ কি.মি কাজ করে। এছাড়া গত জুন ফাইনালের আগে দুই কোটি ৩০ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করে দরপত্র চুক্তির বাইরে আরও এক কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দের দাবিতে কাজটি বন্ধ করে দেয়। এদিকে মেসার্স শামীম এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার বিমল ব্রহ্ম বলেন, ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা এ সড়কটির সংস্কার কাজে সড়ক ও জনপদ বিভাগের সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসেব ভুল ছিল। তাই চুক্তিমূল্যের সঙ্গে আরও অতিরিক্ত এক কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত বরাদ্দ অনুমোদন হলেই কাজ শুরু করা হবে।
ময়মনসিংহ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ খান বলেন, এ সড়কের সংস্কার কাজ করার জন্য ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিমূল্যের অতিরিক্ত এক কোটি দুই লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএন
