নগরীর বেসরকারি সিএসসিআর ক্লিনিকে সোমবার রাত ১টায় জন্মগ্রহণ করে এক নবজাতক। কয়েক ঘন্টা পর নবজাতকের মৃত্যুর সনদ দিয়ে অভিভাবকদের বুঝিয়ে দেয়া হয়। মৃত্যু সনদে লেবার ওয়ার্ডের মেডিকেল অফিসার ডা. রুমার স্বাক্ষর রয়েছে। কিন্তু নবজাতকের মা ডা. রিদওয়ানা কাউসার তুষার তার সন্তানের মৃত্যু নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। প্যাকেট খুলে তিনি দেখতে পান তার বাচ্চা দিব্বি নড়াচড়া করছে। তিনি দ্রুত বিষয়টি হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিত্সকদের জানালে তারা নবজাতকের মৃত্যুর সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
পরে মা ডা. রিদওয়ানা নিজেই বাচ্চাকে চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে বেড খালি না পাওয়ায় মেহেদীবাগস্থ ম্যাক্স হসপিটালে নিয়ে নবজাতককে ভর্তি করানো হয়। দেখা যায় বাচ্চাটি জীবিত।
নবজাতকটি ম্যাক্স হসপিটালের নিউনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউতে) চিকিত্সাধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের জিএম রঞ্জন প্রসাদ দাশগুপ্ত ইত্তেফাককে বলেন, ‘নবজাতকটি বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াজির আহমেদ এর নেতৃত্বে চার সদস্যের চিকিত্সক টিমের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক শিশুটির সার্বিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
ঘটনা প্রসঙ্গে সিএসসিআর’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জামাল আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটির রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
এ ব্যাপারে নবজাতকের মা ডা. রিদওয়ানা ও তার স্বামী ডা. নুরুল আলমের সেল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। মোবাইল রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে ফরিদপুরে এরকম ভাবে এক জীবিত নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন এক চিকিত্সক। পরে দাফন করার সময় শিশুটি কেঁদে ওঠে। একপর্যায়ে তাকে হেলিকপ্টার করে ঢাকায় এনে চিকিত্সা দেওয়া হলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
