ভারতের রাজস্থানের খাজা মইনুদ্দিন চিশতীর দরগার বাইরে এক সুরু গলিতে প্রতিদিন ভিক্ষা করতে বসেন পাপ্পু সিং। বিকেল ৫টার মধ্যে যে করেই হোক ২০০ রুপি নগদ জোগাড় করতেই হয় তাকে। তাহলে তিনি তা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করতে পারেন।
পাপ্পুর দুটো পা নেই। বিহারের বাসিন্দা পাপ্পু রুজির টানে বহুদিন আগে আজমের শহরে চলে আসেন। দরগায় এসে তিনি আশীর্বাদ নেবেন ভেবেছিলেন। কিসের কি, সকলে মিলে ধরে-বেঁধে তাকে বসিয়ে দেন ভিক্ষা করতে। তখন খানিক রাগ হয়েছিল। তবে পরে পাপ্পু ভাবলেন, হয়ত ভগবান এমনই চাইছেন।
ব্যস, তারপর থেকেই দরগার বাইরে ভিক্ষাবৃত্তি করেই দিন কাটছে পাপ্পুর। প্রতিদিন ২০০ রুপি করে তিনি ব্যাংকে জমা করেন। গত দু'মাসে কত জমিয়েছেন সেটাও বলে দিতে পারেন নির্দ্বিধায়।
আসলে পাপ্পুর ভিখারি হয়েও ব্যাংকে টাকা জমানোর বিষয়টিও হয়েছে অদ্ভুতভাবেই। কয়েকমাস আগে এক নেশাখোর এসে পাপ্পুকে ব্লেড দিয়ে হামলা করে তার থেকে সমস্ত সঞ্চয় ছিনিয়ে নেয়। পরে সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে এক সহৃদয় ব্যক্তি এগিয়ে এসে পাপ্পুকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে সাহায্য করেন।
এখন শুধু পাপ্পুই নন, অন্য ভিখারিরাও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা জমাতে শুরু করেছেন।
রাজা ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম ত্রিপুরার বাসিন্দা। এরাও এই দরগার বাইরে বসেন ভিক্ষা করতে। তাদের এটিএম কার্ডও রয়েছে। এছাড়া ব্যাংকে দুজনের যৌথ অ্যাকাউন্টও রয়েছে। নাসিমা খানু নামে এক বৃদ্ধা ভিখারিনীরও তাই।
দরগায় যারা আসেন তারা প্রত্যেকেই কম বেশি দান করেন। দিনে গড়ে ৩০০ রুপি করে তাই আয় হয় পাপ্পু, রাজাদের। তবে উৎসবের দিনে ১ হাজার থেকে ১২০০ রুপি পর্যন্ত আয় হয়।
বেশিরভাগ লোকই খুচরো পয়সা দেন। সেই রুপি স্থানীয় রফিক খানের দোকানে ভাঙিয়ে ১০০ রুপির নোট নিয়ে নেন পাপ্পুরা। তারপর তা জমা করেন ব্যাংকে। আর এভাবেই রোজনামচা কাটে খাজা মইনুদ্দিন চিশতীর বাইরের ভিক্ষুকদের।
ইত্তেফাক/এএম
