কাশিয়ানীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাপ আতঙ্ক, কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০১৬, ১৪:৩২
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাপ আতঙ্কে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে।
 
জানা গেছে, প্রায়ই ওই স্কুলের শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরিতে বিষধর সাপ বিচরণ করে। এ পর্যন্ত ওই স্কুল থেকে ২০/২৫ টি বিষধর সাপ মারা হয়েছে। যে কারণে অভিভাবকরা ছেলে মেয়েকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।
 
বিদ্যালয়ের দপ্তরি হিমন্ত মৌলিক বলেন, ‘সোমবার দুপুরে প্রধান শিক্ষিকার টেবিলের নিচে একটি গোখরা সাপকে বিচরণ করতে দেখা যায়। এ খবরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে সাপটি মেরে ফেলা হয়।’
 
তিনি আরো বলেন, গত দুইদিনে ছয়টি গোখরা সাপ মেরেছি। এ পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ টি বিষধর গোখরা সাপ মারা হয়েছে। বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে প্রায় গোখরা সাপের দেখা মিলছে। যে কারণে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে ভয় পাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীকে বাড়িতে গিয়ে বুঝিয়ে ক্লাসে আনতে হচ্ছে।’
 
সরেজমিনে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের তিন পাশে পুকুর। এবং বিদ্যালয়ের মেঝের (ফ্লোর) মাটি সরে গিয়ে ফাঁকা হয়ে গেছে। আর এসব ছিদ্র দিয়ে সাপ উঠে এসে শ্রেণি কক্ষে বিচরণ করে। বিদ্যালয়ের শ্রেণি ও লাইব্রেরিতে প্রায় গোখরা সাপ দেখতে পাচ্ছেন শিক্ষকরা।
 
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী চয়ন ও প্রশান্ত মন্ডল বলে, ‘আমাদের স্কুলে অনেক সাপ। তাই স্কুলে আসতে ভয় লাগে।’
 
অভিভাবক মনীষ কান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘সাপের আতঙ্কে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে সাহস পাচ্ছিনা। মাঝে মধ্যেই স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীরা সাপ মারছেন।’
 
হাতিয়াড়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার রিকো বিশ্বাস বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই এটি সাপের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। বিদ্যালয়টি সংস্কার করা হলে সাপের উপদ্রব কেটে যাবে।’
 
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা খুকু রানী বাছাড় সাপের উপদ্রবের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘কার্বলিক এসিড ছিটিয়েও সাপের উপদ্রব ঠেকাতে পারছি না। বিষয়টি আমরা কাশিয়ানী উপজেলা শিক্ষা অফিসারকেও জানিয়েছি।’
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ