খালেদা জিয়ার নির্দেশে নির্বাচনে গিয়েছিলাম —মির্জা ফখরুল

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৯, ০১:০৭

দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বিএনপি কেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিল- সে বিষয়ে নেতা-কর্মীদের গতকাল কৈফিয়ত দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফখরুল বলেন, নির্বাচনকে আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম। খালেদা জিয়া কারাগার থেকেই আমাদের নির্দেশনা দিয়েছিলেন েতারই নির্দেশে আমরা নির্বাচনে গিয়েছিলাম। আমাদের সাধারণ সভায় তিনি পরিষ্কার করে বলে গিয়েছিলেন যে, দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে গণতন্ত্রের পক্ষে ঐক্য গড়ে তুলতে এবং এই ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করতে ঐক্য নিয়ে লড়াই করতে হবে। এবং নির্বাচনের পরও তিনি এই ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমানের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সন্ধ্যায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। কে এম ওবায়দুর রহমান স্মৃতিসংসদ এই স্মরণসভার আয়োজন করে। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি টিএম গিয়াসউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মিয়া সম্রাটের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, শামা ওবায়েদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের এক পর্যায়ে দর্শক সারি থেকে ডায়াসে বসা নেতাদের কাছে বিচ্ছিন্নভাবে প্রশ্ন আসতে থাকে। এ সময় ছাত্রদলের ঢাকা কলেজ শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এইচ এম রাশেদ ফখরুলের কাছে এসে প্রশ্ন করেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়ার) মুক্তির দাবিতে কোনো কর্মসূচি নেই কেন? জবাবে ফখরুল বলেন, ‘হু টোল্ড ইউ’। রাশেদ আবার বলেন, ‘ম্যাডামের মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি নেই তো’। এবার ফখরুল বলেন, ‘কে বলেছে আপনাকে এই কথা। অবশ্যই মুক্তি চাওয়া হয়েছে। ডোন্ট টেল এ লাই।’ পরে কয়েকজন নেতাকর্মী রাশেদকে তার জায়গায় সরিয়ে দেয়।

নির্বাচনে যাওয়া ও ড. কামাল নিয়ে প্রশ্ন : মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের আগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, কেনো এই নির্বাচনে আমরা গেলাম। কথা হলো- নিদর্লীয় সরকার ছাড়া নির্বাচন হবে না, কিন্তু তাতো হলো না। কথা হলো খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন হবে না কিন্তু খালেদা জিয়া ছাড়া আমরা নির্বাচনে গেলাম।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের নাম উল্লেখ না করে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমি স্বাধীনতার ইতিহাস জানি। সেসময়ে কে যায় নাই ভারতে, আমরা সব চলে গেলাম। এন্টায়ার কেবিনেট চলে গেল। তাজউদ্দিন আহমেদ সাহেবের রিসেন্টলি একটা বই বেরিয়েছে সেটা আপনারা পড়বেন- সেটাতে লেখা আছে তার (ড. কামালের) যাওয়ার কথা ছিলো আমাদের সাথে। সে যায়নি। আমি নাম বলতে চাই না এই মুহুর্তে। ১৪ জুন পর্যন্ত ঢাকা থাকলেন, তারপর জিওসি টেলিফোন করে বললেন, আমাকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দাও। পাঠিয়ে দেওয়া হলো।

তিনি বলেন, আমরা তার (ড. কামাল হোসেন) ইতিহাস জানি। বাংলাদেশে তার কোনোদিন কোনো আসন ছিল না।