কবরস্থান থেকে ঘিওর উপজেলার কাকজোড় গ্রামটিকে বিচ্ছিন্ন করেছে প্রবাহমান একটি নালা। সেখানে বছর জুড়েই পানি জমে থাকায় পায়ে হেঁটে চলাচলও কঠিন। একটি সেতুর অভাবে ভেলায় ভাসিয়ে লাশ নিতে হয় কবরে।
প্রায় পাঁচ হাজার জনসংখ্যা বেষ্টিত এই কাকজোড় গ্রামের সাত নং ও আট নং ওয়াডের্র দক্ষিণপাড়ার সুবিধা বঞ্চিত মানুষের দুঃখ জড়িত গল্প পৌঁছায় না উচ্চ পর্যায়ে। বেঁচেও মরার মতো অধ্যায়কে সঙ্গি করে এভাবেই দিন কাটাচ্ছেন তারা।
এলাকাবাসী জানায়, প্রবাহমান ওই নালা কাকজোড় গ্রামের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে গ্রামটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ হয়ে একটি পাকা সড়ক ওই নালার উত্তর পারে এসে শেষ হয়েছে। নালার দক্ষিণ পারে জনবহুল কাকজোড় গ্রামের একটি অংশ আর উত্তর পারে প্রাথমিক-মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা, কবরস্থান ও বাজার রয়েছে। সুবিধা বঞ্চিত এ দক্ষিণ পারের মানুষের শিক্ষা, চিকিত্সাসহ যাবতীয় প্রয়োজনে উত্তর পারের এসব প্রতিষ্ঠানে আসতে হয়। দুর্ভোগ এড়াতে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে ওই নালার ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন। সাড়ে তিন কি.মি কাঁচা সড়কের কাদা মারিয়ে ওই সাঁকো পার হয়ে তারা ওইসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন।
কাকজোড় গ্রামের মানুষ তাদের উত্পাদিত ফসল নিয়ে অতি কষ্টে সাড়ে তিন কি.মি কাদাযুক্ত কাঁচা সড়ক ও ওই নালা পারাপার হয়। যুগ যুগ ধরে এভাবেই দুর্ভোগ নিয়ে পারাপার হলেও জনপ্রতিনিধিরা কাঁচা সড়কটি পাকাকরণ ও সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন বহুবার। কিন্তু আশ্বাসেই শেষ, এলাকাবাসীর ভাগ্যোন্নয়নে ৪৩ বছরেও তা নির্মিত হয়নি।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. সাজ্জাকুর রহমান জানান, বিষয়টি আমি জানি না। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
ইত্তেফাক/এএন
