নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ছুটে যাওয়া গরু ফেরত না দেয়ায় অভিমান করে রনজিত কুমার (১৭) নামে এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় গরু আটককারী মতিউর রহমানকে (৩২) বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ আটক করে। পরে
শুক্রবার ভ্রাম্যমাণ আদালত তার বিরুদ্ধে মদ্যপানের অভিযোগ এনে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে এ ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। ঘটনায় জড়িতদের কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রনজিত কুমার ওই গ্রামের মৃত কানাইলালের ছেলে ও সে মান্দা উত্তরা ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র ছিল। আটক মতিউর রহমান একই গ্রামে মুনছুর আলীর ছেলে।
উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বাঁকাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে এক মাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দরিদ্র মা জ্যোৎস্না রাণী।
জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রনজিতের বাড়ির গোয়াল ঘর থেকে একটি ষাড় গরু ছুটে যায়। রাতে অনেক খোঁজাখুঁজি করে গরুটি পায়নি তাদের পরিবার। পরদিন মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে রনজিত জানতে পারেন, একই গ্রামের মতিউর রহমান তার বাড়িতে গরুটি আটকে রেখেছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে মতিউরের বাড়ি গিয়ে গরুটি চিনতে পেরে রনজিত এটি ফেরত চান। এমন দাবিতে সাড়া না দিয়ে গরুটি নিজের বলে দাবি করেন মতিউর। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায়ও গরুটি উদ্ধার করতে না পারায় রনজিত তার নিজ বাড়িতে এসে ঘরে ঢুকেন। সে দীর্ঘ সময় ধরে ঘর থেকে বের না হওয়ায় প্রতিবেশীরা তাকে ডাকাডাকি করে। এতে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে তারা রনজিতের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। এ সময় আত্মহত্যার কারণ উল্লেখ করা রনজিতের লেখা একটি চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে হারানো গরু পাওয়ার পরও ফেরত না দেয়ায় কষ্ট সহ্য না করতে পেরে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে মতিউর রহমানকে আটক করে পুলিশ। এরপর একটি মহলের যোগসাজশে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্যে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে মতিউর। মোটা অংকের উৎকোচে নিয়ে থানা পুলিশ আটক মতিউর রহমানকে মদ্যপানের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজিবুল আলম জানান, চোলাই মদ্যপানের অভিযোগ তাকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। তবে অন্যকোনো বিষয় আছে কিনা তা তিনি জানেন না।
নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মতিউর রহমানকে আটক করার পর কিভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেয়া হলো এমন প্রশ্নের উত্তরে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ‘১০টি কাজ করলে দুই একটি ভুল হতেই পারে।’
ইত্তেফাক/এএসএমইউ
