বিলুপ্তির পথে লোহাগাড়ায় বাঁশ-বেত শিল্প

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৬, ১০:১১
 
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেত শিল্প প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে আজ বিলুপ্তির পথে। একদিকে অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিক সামগ্রীর সয়লাব, অন্যদিকে বাঁশ-বেতসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং পুঁজির অভাবে এসব শিল্পীরা টিকতে পারছে না। ফলে এ শিল্পে জড়িত উপজেলার প্রায় ২ হাজার পরিবার বাধ্য হয়ে তাদের বাপ-দাদার আমলের পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। অথচ এখানকার বাঁশ-বেত শিল্প সামগ্রী চট্টগ্রামসহ দেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়াও এ শিল্প লোকজ সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করে।
 
জানা যায়, লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া, উপজেলা সদর, আমিরাবাদ, কলাউজান ও আধুনগর ইউনিয়নের প্রায় ২ হাজার পরিবার বাঁশ-বেত শিল্প সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কালের বিবর্তনে বাঁশ-বেত বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে এ উপজেলার পাঁচ শতাধিক পরিবার এ শিল্পে কোনমতে টিকে আছে।
 
এ শিল্পে জড়িতরা জানান, উপজেলার অভ্যন্তরে ডলু, টংকা, হাতিয়ারসহ ছোট বড় ১৩টি খাল প্রবাহিত। এসব খালের তীরে ও পাহাড়ে উৎপন্ন হয় বিভিন্ন জাতের প্রচুর বাঁশ ও বেত। কিন্তু বর্তমানে বন-পাহাড় উজাড় ও নদী-খাল জবর দখলের কারণে এসব শিল্প সামগ্রী বিলুপ্ত হতে চলেছে। অথচ এখানকার শিল্পীদের বানানো লাই, ছাই, কুলা, ছালুনী, খারাং, তলই, ডোল, ডুলাসহ অন্যান্য গৃহ সামগ্রী বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ দেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
 
এখনো উপজেলা সদরের দরবেশহাটে সপ্তাহে শুক্রবার ও সোমবার এসব বাঁশ-বেতজাত সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বেপারীরা বিকিকিনি করে। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা এখানে এসে এসব শিল্প সামগ্রী কিনে নিয়ে যায়। উপজেলার আধুনগরের উচ্ছুরীকুল এলাকার ছাই, পদুয়ার ছাট্টিলা পাড়ার তলই, পশ্চিম আমিরাবাদ মাস্টার পাড়ার কুলা-ছালুনী এবং উপজেলা সদরের কালুয়ার পাড়ার লাই-খারাং খুবই প্রসিদ্ধ। শিল্পীরা বেশি দাম দিয়ে বাঁশ-বেতসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনার কারণে এসব শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে। যারা কোনমতে টিকে আছেন, তারা অনেকে খরচ মেটাতে পারছে না।
 
আমিরাবাদ মাস্টার পাড়ার কুলা-ছালুনী শিল্পী মো. আইয়ুব, রাশেদ, হাজারা খাতুন ও ছেমন আরা জানান, বাঁশসহ অন্যান্য সামগ্রীর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়াসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পুঁজির অভাবে অনেকে এ পেশা ছেড়ে দিয়েছে। সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এ শিল্পে সহায়তা প্রদান না করলে অচিরেই বাঁশ-বেত শিল্প বিলুপ্তি ঘটবে বলে এলাকার সচেতনমহল অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
 
ইত্তেফাক/আরএ