গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জসীম উদ্দিন ঐতিহাসিক দ্বীপ ক্রীতির গর্ভনর স্টাভরোস আরনাওটাকিসের সঙ্গে শুক্রবার এক বৈঠক করেন। এ বৈঠকে গভর্নর ও রাষ্ট্রদূতের বাংলাদেশের সঙ্গে ক্রীতি দ্বীপের সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। গভর্নর দফতরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে পর্যটন, শিক্ষা ও ক্রীতিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি প্রাধান্য পায়।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার সরকারের পরিকল্পনার কথা গভর্নরকে অবহিত করেন। গর্ভনর স্টাভরোস পর্যটন বিষয়ে ক্রীতি দ্বীপের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত পর্যটন বিষয়ে বাংলাদেশের গভীর আগ্রহের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ক্রীতি দ্বীপের অভিজ্ঞাতার আলোকে বাংলাদেশকে পর্যটনশিল্প সমৃদ্ধ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও তথ্য বিনিময়ের ওপর তিনি জোর দেন।
IMG0
ক্রীতি দ্বীপে অবস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গভর্নরকে প্রয়োজনীয় সহযোগীতা প্রদানের অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা শুধু বাংলাদেশিই নয়, গ্রিসের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখে চলছে। গভর্নর স্টাফরোস রাষ্ট্রদূতকে এ বিষয়ে সব ধরণের সহযোগীতার আশ্বাস দেন।
একই দিন সকালে ক্রীতি দ্বীপের রাজধানী হেরাক্লিয়নের মেয়র ভাসিলিস লাবরিনোসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ক্রীতি দ্বীপে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি উল্লেখ করে মেয়রের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। মেয়র প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পর্কে বলেন, বাংলাদেশিরা পরিশ্রমী ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি সহযোগীতা অব্যাহত থাকবে বলে রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন।
IMG1
এ ছাড়া উভয়পক্ষ পর্যটনসহ সম্ভাব্য অন্যান্য বিষয়ে সহযোগীতা নিয়ে আলাপ আলোচনা করেন। এ সময় বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব সুজন দেবনাথ এবং ক্রীতি দ্বীপের গভর্নর ও মেয়র অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ক্রীতি দ্বীপের স্থানীয় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও বাংলাদেশ দূতাবাস 'ভ্রাম্যমান কনসুলার সেবা' কর্মসূচির আওতায় ক্রীতি দ্বীপের বসবাসরত প্রবাসীদের কনসুলার সেবা প্রদান করেন। এ সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে তাদের সমস্যাদি নিয়ে আলোচনা করেন।
ইত্তেফাক/আরএ/কেকে
