চিনি শিল্প করপোরেশনের লোকসান ৪৬৩ কোটি টাকা

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৬, ১৮:০২
 
গত অর্থবছরে (২০১৫-১৬) চিনি শিল্প করপোরেশনের ৪৬৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। চিনির উত্পাদন কম হলে লোকসান কম হয়। আর উত্পাদন বাড়লে লোকসান বাড়ে। গত মাড়াই মৌসুমে (২০১৫-২০১৬) করপোরেশনের ১৫টি চিনি কলের চিনি উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ২১ হাজার টন। চিনি উত্পাদন হয়েছে ৬০ হাজার টনের কিছু বেশি।
 
করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, চলতি মাড়াই মৌসুমে (২০১৬-২০১৭) এক লাখ ১৬ হাজার ৩৫০ টন চিনি উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। আর আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ লাখ ৪০ হাজার টন।
 
চিনিকলগুলো হচ্ছে, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁ, সেতাবগঞ্জ, শ্যামপুর, রংপুর, জয়পুরহাট, নর্থবেঙ্গল, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, কুষ্টিয়া, দর্শনার কেরু এন্ড কোং, মোবারকগঞ্জ, ফরিদপুর ও জিলবাংলা। এ মাস থেকে চিনি উত্পাদন শুরু হবে। তবে চিনির উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নির্ভর করছে আখের প্রাপ্যতার উপর। এদিকে প্রতি বছর সুগার মিল করপোরেশনের লোকসানের পরিমান বাড়ছেই। তবে চিনির দাম চড়ে যাওয়ায় করপোরেশন স্বস্তিতে আছে। চিনির দাম দফায় দফায় কমাতে প্রতি কেজির দাম ৩৭ টাকা ধার্য করেছিল। খোলা বাজারে চিনির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় করপোরেশন চিনির বাড়িয়ে ৬০ টাকা কেজি ধার্য করেছে। খোলা বাজার থেকে থেকে চিনির দাম কম রাখায় করপোরেশন গুদামে মজুত পুরানো চিনি বিক্রি করে মজুত কমিয়ে এনেছে। চিনি কলগুলোর গুদামে কয়েক বছর আগের চিনিও মজুত ছিল।
 
মিলগুলোতে আখের প্রাপ্যতা নির্ভর করছে গুড়ের দামের উপর। গুড়ের দাম বেশি হলে মিল জোন এলাকা গুলো থেকে আখ গুড় তৈরির দিকে ঝুঁকে যাবে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি গুড় ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মন আখ থেকে সাড়ে ৪ কেজি থেকে ৫ কেজি গুড় তৈরি হয়। এতে চিনির বদলে গুড় তৈরিতে আখ ব্যবহারের সম্ভাবনা বেশি। ইতিমধ্যে রাজশাহী, নর্খবেঙ্গল, নাটোর ও কুষ্টিয়া চিনিকল এলাকায় গুড় তৈরি শুরু হয়ে গেছে বলে জানা যায়। ক্রয় কেন্দ্র গুলোতে এক মন আখ কেনা হয় ৯৭ টাকা ৫০ পয়সা দরে এবং মিল গেটে দাম দেওয়া হয় ১০০ টাকা মন। গত বছর গুড় তৈরি ওয়ালারা প্রতি মন আখ এক’শ ২০ টাকা থেকে এক’শ ৩০ টাকা পর্যন্ত দরে নগদ টাকায় চাষিদের কাছ থেকে আখ কিনে নিয়ে যায়। তারপরও মিল গুলোতে আখ বিক্রি করে নগদ টাকা পাওয়া যায় না। ভাউচার হাতে করে টাকার জন্য দিনের পর দিন ঘুরতে হয় চাষিদের। দালালদের কাছে কম দামে ভাউচার বিক্রি করে দিতে হয় । তাদের বিড়ম্বনার শেষ থাকে না। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে আখ চাষে। আখ এক বছরের ফসল। বছরে এখন একই জমিতে ৩টি ফসল ফলাচ্ছে চাষি। এ কারণে দিনে দিনে আখ চাষ হ্রাস পাচ্ছে।
 

ইত্তেফাক/এএম।