‘খাদিজার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে’

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৬, ০৮:৩৮
 
সিলেটে ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের চাপাতির কোপে গুরুতর আহত খাদিজা বেগম নার্গিসের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তিনি একবার চোখ মেলেছিলেন, ডান হাত ও ডান পায়েও সাড়া দিয়েছেন। শনিবার দুপুরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের অ্যাসোসিয়েট মেডিক্যাল ডিরেক্টর মির্জা নাজিম উদ্দিন সাংবাদিকদের একথা জানান।
 
তিনি বলেন, ‘৯৬ ঘণ্টা পর আমরা একটু বলতে পারি তার (খাদিজা) অবস্থার উন্নতি হয়েছে। আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর তার নিউরোলজিক্যাল স্ট্যাটাস বোঝা যাবে। আমরা আশাবাদী, আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন’।
 
‘পরে সংবাদ সম্মেলনে খাদিজার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন খাদিজার অপারেশন করা চিকিত্সক নিউরো সার্জন ডা. এ এম রেজাউস সাত্তার। তিনি বলেন, খাদিজার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেড়েছে। তার শরীর রেসপন্স করছে’।
 
খাদিজার মতো গুরুতর আহত রোগীদের ক্ষেত্রে ৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিত্সা শুরু করতে পারলে ভালো হতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা খাদিজাকে পেয়েছি ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার মস্তিষ্কের অবস্থা বোঝা যাবে। সে একবার চোখ খুলেছিল। এছাড়া তার ডান হাত ও ডান পা রেসপন্স করেছে’।
 
ডা. রেজাউস সাত্তার বলেন, আগে খাদিজার বাঁচার সম্ভাবনা ছিল ৫ শতাংশ, এখন সেটা ১০ শতাংশ। সে যখন স্কয়ার হাসপাতালে আসে তখন তার চেতনাশক্তি ছিল ৬/১৫, এখন তা ৬/১০ এ রয়েছে। সংজ্ঞা ফিরে পাওয়ার পর নার্গিসের অর্থোপেডিকস চিকিত্সকরা তার হাতের চিকিত্সা শুরু করবেন জানিয়ে ডা. রেজাউস সাত্তার বলেন, ‘এ ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে অঙ্গহানি বড় বিষয় নয়, তার বেঁচে থাকাটাই বড় কথা।’
 
তিনি বলেন, আগে আমরা সন্দিহান ছিলাম নার্গিস বাঁচবে কিনা, খুব ন্যারো রাস্তায় হাঁটতে হয়েছে আমাদের। তবে এখন তার সারভাইভাল লেভেল বেড়েছে। চিকিত্সা বিজ্ঞানের ভাষায় গোল্ডেন আওয়ার বলে একটি কথা আছে। চার ঘণ্টার মধ্যে চিকিত্সা শুরু করতে হয়। কিন্তু আমরা তাকে পেয়েছি ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পরে।
 
গত ৩ অক্টোবর শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম সিলেট এমসি কলেজের পুকুর পাড়ে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।