মাত্র এক মাস আগে গাজীপুরের হাড়িনালের বাড়িটির মালিক আতাউর রহমান ভাড়া দেন। একতলা বাড়িটিতে বেশ কয়েকটি কক্ষ রয়েছে। এসব কক্ষ মেস হিসাবে ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থী থাকেন। এদের মধ্যে দুইটি কক্ষ দুই ছাত্র ভাড়া নেন। তারা নিজেদেরকে গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তৌহিদুল ইসলাম ও এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থী রাশিদুল ইসলাম পরিচয় দেন। তাদের উভয়ের বাড়ি নরসিংদী। ভাড়া নেওয়ার সময় তারা ভাড়াটিয়ার তথ্য ফরম পূরণ করেন। বাড়ির মালিক আতাউর রহমান ঢাকায় থাকেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করেই কক্ষ ভাড়া নেওয়া হয়।
র্যাব-১ এর গাজীপুর কোম্পানী কমান্ডার মহিবুল ইসলাম জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে র্যাব সদস্যরা শনিবার ভোর ৬টার দিকে অভিযান চালিয়ে পুরো ভবন ঘেরাও করে রাখেন। সকাল ১০টার দিকে র্যাব ভবনের ভিতরে প্রবেশ করে। জঙ্গিরা এসময় ভিতর থেকে র্যাব সদস্যদের গুলি করে। র্যাবও পাল্টা গুলি ছুঁড়তে থাকে। এক পর্যায়ে র্যাব সদস্যরা ঐ বাসায় ঢুকে গুলি করতে থাকেন। পরে বাসার একটি কক্ষের ভিতরে দুটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন র্যাব সদস্যরা। নিহত দুইজনের নাম তৌহিদুল ইসলাম ও রাশিদুল ইসলাম।
র্যাবের অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে একে-২২ বোরের একটি রাইফেল, একটি নাইন এমএম পিস্তল, ২টি ম্যাগজিন, ২০-২৫ রাউন্ড গুলি, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, তিনটি চাপাতি ও ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দুই জঙ্গির লাশ একই জায়গায় পড়ে আছে। ফ্লোরে তোশক বিছিয়ে ঘুমাতেন তারা। রক্তে সেসব ভিজে গেছে। চারটি ব্যাগে ছিল ওই দুই জঙ্গির কাপড়। ওই বাড়িতে থাকা অপর ভাড়াটিয়াদের অভিযানের সময় নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
র্যাব জানায়, নিহত দুই জঙ্গির জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায় ওই বাসায়। কিন্তু সেগুলো ভুয়া বলে মনে করছেন তারা। পরিচয়পত্রের ছবির সঙ্গে প্রকৃত চেহারার মিল না থাকার কারণে এমনটা মনে করছেন র্যাব কর্মকর্তারা। বাড়ির মালিককে র্যাব হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে।
র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ জানান, র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করে জঙ্গিরা। পরে র্যাব পাল্টা আক্রমণে গেলে দুই জঙ্গি নিহত হয়।
