সৈয়দপুর স্টেডিয়ামে ঘাসের আড়ালে জুয়া ও নেশার আড্ডা

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৬, ০৪:৪৪
উপজেলা সদর সংলগ্ন ঢাকা কোচ স্ট্যান্ড সংলগ্ন পৌর ১১ নং ওয়ার্ডে কুন্দল দহলা এলাকায় স্টেডিয়ামটি অবস্থিত। ৮০-১২০ মিটারের মাঠটিতে দেড়ফুট উচ্চতার ঘাস। একই মাপের উভয়দিকের ২টি আউটফিল্ডে অবস্থা আরো ভয়ঙ্কর। প্রায় ৮ হতে ১০ ফুট উচ্চতার জঙ্গলে ভরে গেছে। আর এর আড়ালে চলে তরুণদের জুয়া ও নেশার আড্ডা। যেন দেখার কেউ নেই।
 
তত্কালীন প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে প্রায় ১২ একর জমি প্রাচীর দিয়ে ঘিরে এ উপজেলাবাসীর খেলাধুলার জন্য স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করেন। এরপর হতেই এখানে উপজেলা ক্রীড়া পরিষদের উদ্যোগে ফুটবল লিগ, অ্যাথলেট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। এ ছাড়া এলাকাবাসীর উদ্যোগে ১৯৯৫ সালে ঢাকা গাজীপুরের ব্রাদার্স ইউনিয়নসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১৬টি অতিথি দল নিয়ে আফতাব-জহীর নামে একটি গোল্ডকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে প্রতিযোগিতায় ঢাকার অতিথি দলটি দেখেছে এ উপজেলার হাজার-হাজার ফুটবলপ্রেমীর উন্মাদনা। এরপর সে প্রতিযোগিতা নিয়মিত আর হয়নি। তবে আচমকা দীর্ঘ বিরতিতে এ উপজেলার ফুটবল লিগ আয়োজন হলেও দর্শকরা মাঠে এসেছিলেন। আবার বন্ধ।
 
অথচ সৈয়দপুরের খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া হতো নীলফামারী জেলা ক্রিকেট দল। দীর্ঘদিন ধরে চলায় এটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছিল। আর অন্যান্য ইভেন্টে তো এ উপজেলার অ্যাথলেটরা জানে না। অথচ ১৯৯১ সালে ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে স্থানীয় ক্লাবদের নিয়ে অ্যাথলেট-এর ২৫টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা হয়েছিল। পরে আর এ প্রতিযোগিতাও হয়নি।
 
৮০-১২০ মিটারের মাঠটিতে দেড়ফুট উচ্চতার ঘাস। একই মাপের উভয়দিকের ২টি আউটফিল্ডে অবস্থা আরো ভয়ঙ্কর। প্রায় ৮ হতে ১০ ফুট উচ্চতার জঙ্গলে ভরে গেছে। আর এর আড়ালে চলে তরুণদের জুয়া ও নেশার আড্ডা। যেন দেখার কেউ নেই।
 
অথচ যোগাযোগ ব্যবস্থায় এ শহরের বিমানবন্দরে ঢাকা হতে প্রতিদিন ৫টি ফ্লাইট ওঠানামা করে। যার আকাশপথের দূরত্ব ৫০ মিনিট। ট্রেনে খুলনা, যশোর, ঢাকাসহ সকল রেল এলাকায় যাওয়া-আসা। আবার বাসে সুদূর বরিশালসহ দেশের সকল এলাকায় সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা থাকায় এ স্টেডিয়ামে সহজেই বিদেশি দল আসতে পারবে। আর এ কারণে উপজেলার ক্রীড়ামোদীসহ রাজনীতিবিদরা এ স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম করার জন্য সর্বমহলে দাবি তুলেছেন।
 
উপজেলার প্রবীণ রাজনীতিক ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আলহাজ বখতিয়ার কবির বলেন, উত্তরবঙ্গেও ১৬ জেলার চেয়ে আমরা মাঠ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবাসন ও নিরাপত্তা সুবিধায় এগিয়ে আছি। তাই এটি আমাদের প্রাণের দাবি।
 
বাংলাদেশ এ দলের সাবেক উইকেট কিপার মুহাম্মদ মুখতার সিদ্দিকী বলেন, দীর্ঘদিন ঢাকার মাঠে খেলেছি। সৈয়দপুরকে ক্রিকেট নিয়েই চিনতো। এখন এ অবস্থা আর নেই। শুধু মাঠ আর খেলার অভাবে। এরপরেও এতবড় গ্রাউন্ডের স্টেডিয়াম উত্তরাঞ্চলে দ্বিতীয়টি নেই। অথচ সংশ্লিষ্টরা এ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেন না। যা খুবই দুঃখজনক।
 
মাঠটিকে শুধু জীর্ণদশা থেকে নয়। আমরা ভৌগোলিক ও অন্যান্য প্রস্তুতকৃত সুবিধার ক্ষেত্র হতেই এ স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিকমানের পাওয়ার দাবি রাখি। তাই এ বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই সংসদে প্রস্তাব পেশ করবো বলে জানান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শওকত চৌধুরী।
 

ইত্তেফাক/এএন