যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন

সোনাতুনি ইউনিয়নের ছয় গ্রাম বিলীন

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৬, ০৪:৫০
গত কয়েকদিন ধরে যমুনায় বন্যার পানি কমতে থাকায় শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতুনি ইউনিয়নের বিশাল এলাকায় ভয়াবহ ভাঙনের তাণ্ডব শুরু হয়েছে। এতে কমপক্ষে ৬টি গ্রাম বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। ওই গ্রামগুলো হচ্ছে,  সোনাতুনি, মাকড়া, বারপাখিয়া, বানতিয়ার, বড়চানতারা ছোটচানতারা। এসব গ্রামের ৫ শতাধিক ঘর-বাড়ি ও ২ শতাধিক ইরি স্কিমের ২ হাজার বিঘা জমি ইতোমধ্যেই যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। এতে এসব গ্রামের অন্তত ২ হাজার মানুষ নতুন করে গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
 
বানতিয়ার গ্রামবাসী জানান, এ বছর বন্যার পানি বাড়ার সাথে সাথে এসব গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙনের তাণ্ডবও ভয়াবহ রূপ নেয়। দেখতে দেখতে চোখের সামনে বাড়ি-ঘর, ভিটামাটি, জমি-জমাসহ সব কিছু মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়। এতে ঐ সব এলাকার অসহায় মানুষগুলো সর্বস্ব খুইয়ে সর্বস্বান্ত ও নিঃস্ব হয়ে গেছে। এখন তাদের জীবন-জীবিকা চালানোর মত কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা পরিবার পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
 
 এলাকাবাসি অভিযোগ করেন, দুর্নীতির কারণে গত ২ মাসের মধ্যেও টিআর, জিআর, ভিজিএফ এর চাল, নগদ টাকা বা খাদ্য সামগ্রীর কোনো কিছুই তারা হাতে পায়নি। সরকারি বরাদ্দ যা এসেছে তার অধিকাংশই চেয়ারম্যান-মেম্বাররা আত্মসাত্ করেছেন। এ ব্যাপারে সোনাতুনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ফজলু অসুস্থ থাকায় তার ভাই শামছুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বন্যা ও ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৪ দফায় ১৭/১৮ মেট্রিক টন জিআর এর চাল বিতরণ করা হয়েছে। সেখানে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি করা হয়নি। শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প অফিসার জিন্দার আলী এ ব্যাপারে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এব্যাপারে  সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান, ইতোমধ্যেই ২ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ হয়েছে অতি দ্রুত ভাঙন রোধে ড্যাম্পিং শুরু হবে।
 
ইত্তেফাক/এএন