মানিকগঞ্জ —২ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয়েছে মনোনয়ন যুদ্ধ। কে কীভাবে বাগিয়ে নিবেন দলীয় মনোনয়ন তা নিয়ে রীতিমত লবিং, গ্রুপিং, তদ্বির চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আবার এমনও মনোনয়ন প্রত্যাশী আছেন যারা শুধু দলীয় প্রধানের নজরে আসার জন্য মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও যেন বলতে পারেন ‘এমপি প্রার্থী হওয়ার জন্য ফরম কিনেছিলাম’। এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়া জোটের তেমন ভোট নেই এবং সংগঠনও নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য জোট গঠন হলে মনোনয়ন পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত দলের অনেকেই। এ ক্ষেত্রে বিএনপির ঝামেলা কম কিন্তু নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে জানা গেছে। অবশ্য এখানে ঐক্য পরিষদের গণফোরামের মনোনয়ন প্রত্যাশীর আগমন দু’একদিনের মধ্যে ঘটতে পারে এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
মানিকগঞ্জ—২ (সিংগাইর, হরিরামপুর ও সদরের আংশিক) আসনের সর্বত্রই আলোচনা চলছে- কে হচ্ছেন কোনো দলের প্রার্থী। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাটে ঘাটে মাঠে সর্বত্রই চলছে এ আলোচনা। কে পাবে নৌকা আর কে পাবে ধানের শীষ প্রতীক। নাকি অন্য প্রতীক। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ছাড়াও শরীক দলের বিকল্প ধারা, জাতীয় পার্টিও মনোনয়ন পত্র কিনে জমা দিয়েছেন। অন্য দলের ভোট না থাকায় ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে ধানের শীষ আর নৌকা প্রতীকের সম্ভাব্য প্রার্থীকে ঘিরে। এ আসনের বর্তমান এমপি খ্যাতিমান কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। তিনি এবারেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কিনেছেন এবং জমা দিয়েছেন। মমতাজ বেগমের সরব উপস্থিতি থাকলেও নীরবে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তবে শেষ পর্যন্ত এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকবে নাকি জোটের প্রার্থী থাকবে, এটাই এখন আলোচনার বিষয়। এখানে জাতীয় পার্টির ( লাঙ্গল) মনোনয়ন কিনেছেন সাবেক সংসদ সদস্য এসএম আব্দুল মান্নান। বিকল্প ধারা (কুলা) থেকে কিনেছেন সাবেক মন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন। আওয়ামী লীগকে মাঠ ছেড়ে দিতে হতে পারে তাদের দু’জনের একজনকে। এছাড়া নৌকার মনোনয়ন কিনে জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা গোলাম মনির হোসেন, জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিন, সাবেক এমপি শামসুদ্দিন আহমেদ ও ইঞ্জিনিয়ার সালাম চৌধুরী । এছাড়া ‘ডামি প্রার্থী’ হিসেবে আরো কয়েকজন রয়েছেন।
বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র কিনে জমা দিয়েছেন সাবেক শিল্প মন্ত্রী শামসুল ইসলাম খান নয়া মিয়ার ছেলে দলের শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, সিংগাইর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান খান রোমান, হরিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান শিল্পপতি সাইফুল হুদা সাতিল। এছাড়া ডামি প্রার্থী হিসেবে কিনেছেন আরো কয়েকজন। জেলা নির্বাচন অফিস থেকে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬ হাজার ১৬২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার বেশি- ২ লাখ ৩ হাজার ৯৮১ জন।
